চট্টগ্রামের রাউজানে একদিনে স্কুল-কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে৷
গত রবিবার সকাল ৯টায় কলেজে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে নিখোঁজ হন শিমু রাণী নাথ (১৭)। তিনি রাউজান কলেজের একাদশ শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রী ও রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সর্তা গ্রামের আশিষ নাথের মেয়ে।
শিমুর বোন ইমু নাথ বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় আমার বোন কলেজে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে নিখোঁজ হন। সন্ধ্যায় ফিরে না আসায় রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দেই। এখন পর্যন্ত (সোমবার বিকাল ৪টা) সন্ধান পাইনি।
একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় চুয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছুটি শেষে থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাহাড়তলী থেকে নিখোঁজ হন মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (১২)। ১৩ ঘণ্টা পর রবিবার দিবাগত রাত ২টায় ঘটনাস্থল থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে রাউজান মুন্সির ঘাটা এলাকায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে ওই স্কুল ছাত্রের ভাষ্যমতে তাকে সংঘবদ্ধ একটি চত্রু অপহরণ করেছে।
স্কুল ছাত্র সাজিদ জানায়, স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে পথিমধ্যে একটি মেয়ে তাকে একটি কাগজ দিয়ে ঠিকানাটি কোথায় জানতে চায়। কাগজে লেখা ছিল খুবই ছোট। সাজিদ লেখা দেখতে চোখের কাছাকাছি নিয়ে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তার জ্ঞান ফিরলে নিজেকে একটি বেড়ার ঘরে দেখতে পায়। ওখানে তিন যুবক তাকে মায়ের মোবাইল নম্বর দিতে বলে। সাজিদ মোবাইল নম্বর জানে না বললে যুবকরা তাকে মারধর করে।
এরমধ্যে তাকে ব্যাপক খোঁজাখুজি শুরু হলে অপহরণকারীরা তাকে ওখান থেকে সিএনজি ট্যাক্সি করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় সাজিদ মুন্সির ঘাটা এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে কৌশলে লাফ দেয়। এরপর ওখানে একটি দোকানে গিয়ে তার মায়ের মোবাইলে ফোন দেয়। পরিবারের লোকজন ওখান থেকে তাকে রাত দুইটায় উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান।
সাজিদের পরিবারের দাবি তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার অজয় দেব শীল বলেন, রবিবার এক স্কুল ছাত্র নিখোঁজের বিষয়ে ডায়েরি করেছিল পরিবার। রাত ২টায় ওই ছাত্রের সন্ধান পাওয়া যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে চিকদাইর ইউনিয়নের এক কলেজ ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ সোমবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।