মুস্তাকিমকে গ্রেফতার : তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি

চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিসের ফি বাড়ানোর প্রতিবাদকারী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মুস্তাকিমকে গ্রেফতারের ঘটনায় মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মাহতাব উদ্দীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।  গত ১৪ জানুয়ারি এই কমিটি গঠন করা হয়।  কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আলী হোসেন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিএসবি)।  আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার আদেশ দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি আজ সোমবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) স্পিনা রাণী প্রামাণিক।

সূত্রটি জানাচ্ছে, সেদিন মুস্তাকিমকে গ্রেফতার এবং আন্দোলরত এক নারী কিডনি রোগীকে লাথি মারার ঘটনায় ক্ষুব্ধ খোদ নগর পুলিশ প্রশাসন।  ওই ঘটনায় পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দীনের ‘অতি উৎসাহী’ কোনো ভুমিকা ছিল কি না তা তদন্ত করতেও কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধি এবং সরকারিভাবে ভর্তুকি কমিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনের সড়কে কিডনি রোগী ও স্বজনদের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মুস্তাকিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  তাকে সহ অজ্ঞাতপরিচয়ের ৫০ থেকে ৬০ রোগীর স্বজনকে আসামি করে ‘সরকারি কাজে বাধাদান ও পুলিশের ওপর হামলার’ অভিযোগে মামলা করে পুলিশ।

গত রোববার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান মুস্তাকিম।  চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. অলি উল্লাহ তার জামিন মঞ্জুর করেন।  জামিন শুনানিতে অংশ নেন হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন এবং মানবাধিকার কমিশনের অন্তত শতাধিক আইনজীবী।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মাহতাব উদ্দীন বলেন, ‘কিডনি ডায়ালাইসিসের ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে পুলিশ এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঘটনা হয়েছে সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি। এ ঘটনায় ওসি নাজিম উদ্দীন মজুমদারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল কি না তাও তদন্ত করে দেখা হবে।  তদন্ত শেষে বলা যাবে পুলিশের ভুলত্রুটি কোথায় ছিল।’

এদিকে আটকের পর পুলিশ মুস্তাকিমের ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।  মুস্তাকিম অভিযোগ করেন, পুলিশি নির্যাতনের ফলে তার দুই পায়ে ও উরুর নিচে বিভিন্ন জায়গায় কালচে ও লালচে দাগ হয়ে গেছে।  মুস্তাকিমের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় আদালতে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান।

মুস্তাকিমের গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর আজাদী বাজারে।  তার বাবার নাম খালেদ আহমদ।  তিনি বেঁচে নেই।  মুস্তাকিম তার একমাত্র সন্তান।  তার এক বোন প্রতিবন্ধী।  গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি হলেও বর্তমানে তারা থাকেন হাটহাজারী উপজেলার লালিয়ারহাট এলাকার একটি ভাড়া বাসায়।