চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সঙ্ঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্র। এবার চারদিনে উপজেলার দুই থানা এলাকা থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে গেছে চক্রটি।
সর্ববেশ গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মিরসরাই পৌর সদরের মিরসরাই ক্যাফে নামের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে একটি মোটরসাইকেল, বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ৪ নং ওসমানপুর ইউনিয়নের পাতাকোট এলাকা থেকে দুটি মোটরসাইকেল ও সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে একই উপজেলার মিরসরাই থানার ১২নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের নয়দুয়ারীয়া এলাকা থেকে দুটিসহ মোট পাঁচটি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়।
জানা গেছে, উপজেলার মোটরসাইকেল চোর চক্রটি চিহ্নিত। তারা দিনে ছাত্ররাজনীতি করে, রাতে মোটরসাইকেল চুরি করে। তারা রাজনৈতিক বড় ভাইদের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও আদর মহব্বতে পূর্ণিপূর্ণ। তাই আইনকানুকে তোয়াক্কা না করে চক্রটি ভয়ডর ছাড়াই মোটরসাইকেল চুরি করে যাচ্ছে।
সম্প্রতি চোর চক্রটি সম্পর্কে স্থানীয় সাংবাদিক আশরাফ উদ্দিন সংবাদ প্রকাশ করলে চক্রটি সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা করে। দিনদুপুরে মহাসড়কে হামলা চালালে ওই সাংবাদিক থানায় আশ্রয় নিলে সেখানেও দুই দফায় হামলার চেষ্টা করে। এ সময় চক্রটির রাজনৈতিক বড়ভাই এসে থানার ভেতরেই সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেন।
ওই ঘটনার পর সাংবাদিকের পূর্বে করা জিডি থাকলেও মামলা না নিয়ে আবারও জিডি গ্রহণ করেন। হামলার ঘটনায় চক্রটিকে রক্ষা করার জন্য পুলিশ মূলহোতা মেহেরাজ অনিককে সাংবাদিক আশরাফের বিরুদ্ধে পাল্টা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানা যায়। এতে চোর চক্রের সঙ্গে পুলিশের সখ্যতা স্পষ্ট প্রকাশ পায়।
সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) ২টি মোটরসাইকেল হারানো আলাউদ্দিন খোকন বলেন, বাড়ির বাউন্ডারির ভেতর থেকে গেটের তালা ভেঙে আমার ২টি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। স্থানীয় কেউ জড়িত না থাকলে আমার বাড়ির ভেতরে মোটরসাইকেল আছে এটা বাইরের কেউ জানার কথা নয়। চুরি হওয়ার সাথে সাথে মিরসরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু থানা থেকে কোন রিসিভং দেয় নাই।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে চুরি হওয়া মিরসরাই ক্যাফের মালিক দিদার জানান, শুক্রবার ভোর রাতে চোর চক্রটি দোকানের ভেতরে রাখা পণ্য ভেলিভারির ডিসকভার মডেলের মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। দোকানের সিসি ক্যামেরায় বহিরাগত এক যুবককে দেখা গেছে। তবে ক্যামরার বাইরে আরও লোক থাকতে পারে। অভিযোগ করার জন্য থানায় গেলে থানার ওসি কবির হোসেন পরে যাওয়ার জন্য বলেছেন।
স্থানীয়দের অভিমত, রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রশাসনিক রহস্যজনক নিরবতার কারণে পুনরায় মোটরসাইকেল চোর চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা একদিন মিরসরাই থানা এলাকায় চুরি করলে পরেরদিন জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় চুরি করে। কোনদিন সদর এলাকায় চুরি করে তো অন্যদিন গ্রাম্য এলাকায় করে। তবে প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিয়নে তাদের সোর্স আছে। সোর্সরা স্থানীয়দের মোটরসাইকেল কে কোথায় রাখে তার তথ্য সরবরাহ করে মূল চক্রকে। সোর্সের দেখানো স্থান থেকে রাত ৩টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে ওই সময় চুরি করে নিরাপদে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তাদের গাড়ির গতি থাকে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটারের বেশি। ফলে স্থানীয় সিসি ক্যামেরায় তাদের চলার চিত্র ধরা পড়লেও মুখ চেনার উপায় থাকে না।
তবে চক্রটি চিহ্নিত এবং বেশ কয়েকবার হাজত খেটেছে। থানা পুলিশের কাছে তাদের তথ্য রয়েছে। মোটরসাইকেল চোর চক্রের যে সকল সদস্য জামিনে আছে তাদের নজরদারিতে রাখলে পুনরায় মোটরসাইকেল চুরি সম্ভব হতো না।
এ বিষয়ে জানতে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেনকে একাধিকবার ফোন কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।