চট্টগ্রামের মিরসরাই সদর ইউনিয়নের একটি মহিলা মাদ্রাসায় ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক থাকায় হাফেজ সাইফুল্লাহ (৩২) প্রকাশ নেত্রকোনা হুজুর নামের এক শিক্ষকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার কৈলং গ্রামের মকসোদ আলীর সন্তান।
বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই মাদ্রাসার পরিচালক নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সাক্ষর নিয়ে অভিযুক্ত এই শিক্ষকে মাদ্রাসা থেকে বহিস্কার করেন।
জানা যায়, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার মোবাইলে একটি মেসেজ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল্লাহ। মেসেজকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষার্থীর ভাই ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে শিক্ষক সাইফুল্লাহকে উত্তম মাধ্যম দেয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত শিক্ষকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদ্রাসার ভেতরে জামেলা দেখে লোকজন জড়ো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল্লাহর সঙ্গে ওই ছাত্রীর ভাইয়ের সাথে অনেক কথাকাটি হয়। পরে সেই শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিছুক্ষণ পর শিক্ষক সাইফুল্লাহর বড় ভাই তাকে জিম্মায় নিয়ে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেনা মর্মে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
মাদ্রাসার পরিচালক জানান, ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত শিক্ষকে মাদ্রাসা থেকে বহিস্কার করা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে আমরা আর বাড়াবাড়িতে যেতে চাই না। মাদ্রাসা একটি দীনি প্রতিষ্ঠান আর ওই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আছে। শিক্ষক ও তার ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা দিয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় আমরা শিক্ষক কে বহিষ্কারের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছি।
মিরসরাই সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় আছেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই শিক্ষককে শাস্তির সম্মুখীন না করে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করা প্রতিষ্ঠান প্রধানের উচিত হয়নি। এমন হলে এধরণের ঘটনা আরও ঘটতে পারে। ঢাকা থেকে ফিরে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। কিভাবে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া যায় সেই চেষ্টা করব।