একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে নাম আসছে মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের ছোট ভাই আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন রুবেলের। অভিযোগ, নিজের নিয়ন্ত্রিত কিশোর গ্যাং লেলিয়ে দিয়ে জমি দখলসহ নানা অপরাধের পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের প্রভাব খাটিয়ে দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।
সর্বশেষ, রবিবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের মিঠাছরা বাজারে নিজের নিয়ন্ত্রিত ২০-২৫ সদস্যের কিশোর গ্যাং নিয়ে আরেক আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল মোস্তফা পলাশ (৫২) গুরুত্বর আহত অবস্থায় বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নুরুল মোস্তফা পলাশ ৯ নং সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিন রুবেল ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
হামলার শিকার নুরুল মোস্তফা পলাশ জানান, মিঠাছরা বাজারের হাবিব ফার্মেসি সংলগ্ন হিন্দুদের অর্পিত সম্পত্তি ও আবছার মিয়া খান ট্রাস্টের মালিকানাধীন কিছু সম্পত্তি কিনেছিলেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। এরপর উপজেলা চেয়ারম্যান তার ভাইকে ব্যবহার করে আশপাশের জমিও দখলের চেষ্টা করেন। নাজিম উদ্দিন রুবেল নিজের নিয়ন্ত্রিত কিশোরগ্যাং ও সন্ত্রাসী বাহিনী আশপাশের জমির মালিকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন জায়গা বিক্রি এবং ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য।
অভিযোগ উঠেছে, নিরীহ হিন্দু জনগোষ্ঠী প্রভাবশালী উপজেলা চেয়ারম্যান এবং তার ভাই রুবেলের বিরুদ্ধে মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন সন্ত্রাসীরা।
ভুক্তভোগী এবং হামলার শিকার নুরুল মোস্তফা পলাশ বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং তার ভাই রুবেলের হাত থেকে আমার জায়গা রক্ষার জন্য বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলাম। আমার জায়গা দখল করতে পারবে না দেখে তাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। ফলে তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আমি কিছুদিন ধরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা পায়নি।
তিনি আরও বলেন, গতকাল মিঠাছরা বাজারের কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যস্ততায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি। এ সময় নাজিম উদ্দিন রুবেল তার গঠিত সন্ত্রাসীবাহিনীর ২০-২৫ সদস্যকে নিয়ে এসে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের মধ্যে যাদের চিনতে পেরেছি তারা হলো- তাহসান উদ্দিন ইমন (২২), মাহফুজ উদ্দিন (২৮), আনিসুর রহমান রিফাত (৩৩) ও রাজু (৩৮)।
জানতে চাইলে নাজিম উদ্দিন রুবেল হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো হামলা করিনি। উল্টো আমার ওপর হামলা করার জন্য উনি হাতে রড নিয়েছিলেন। আমার সাথে থাকা লোকজন ওঁনার হাত থেকে রড কেড়ে নিতে গিয়ে সামান্য আহত হয়েছেন।
রুবেল আরও বলেন, পলাশ ভাইয়ের জায়গায় আমার বড় ভাইয়ের কেনা (উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম) জায়গা আছে। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এটির সমাধানেরও চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কারও কথা না শুনে গতকাল রাতে আমাদের গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুল মোস্তফা পলাশকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কবির হোসেনের সাথে যোগাযোগের জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন দেশ বর্তমানের এই প্রতিবেদক।