মিরসরাইয়ে আধিপত্যবিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। মাদক বাণিজ্য, চুরি-ছিনতাইয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত মারামারির মতো ঘটনাও ঘটছে। এতে বাড়ছে হতাহতের ঘটনা এবং অপরাধ কর্মকাণ্ড।

সর্বশেষ গত রবিবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার সময় উপজেলার ১৬ নং সাহেরখারী ইউনিয়নের কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলো- গজারিয়া কাশেম মুক্তার বাড়ির প্রবাসী মোসলেম উদ্দিনের ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার মোশাররফ হোসেন জিসান (২২), তার চাচাত ভাই ও কিশোর গ্যাং সদস্য মাহমুদুল হাসান অহি (২২), জাবেদ হোসেন (২১) ও মোঃ সবুজ (২২)। অপরদিকে মোশাররফ হোসেন জিসান গ্রুপের হামলায় প্রতিপক্ষের এক নারীসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- সরোয়ার হোসেন রিপন (৩৪), মোঃ মনছুর (৩৬), মোঃ ইসলাম (২৮), মোঃ বেলাল হোসেন (৩০), মোঃ মিন্টু (৪৫) ও মোঃ বাচ্চু(৪৫)। এছাড়া আরও এক নারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ সাহেরখালী ইউনিয়নের ডোমখালী, গজারিয়া বাজার, ভোরেরবাজার ও ভেড়িবাদ এলাকায় মাদক বাণিজ্য, চুরি, ছিনতাই নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাং লিডার মোশাররফ হোসেন জিসান ও প্রতিপক্ষ সরোয়ার হোসেন রিপনের অনুসারীদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়। বিবাদকে কেন্দ্র করে মোশাররফ হোসেন জিসানের কিশোর গ্যাং সদস্য স্কুলছাত্র পলাশ (১৭) এর সাথে রিপনের অনুসারীদের সাথে রবিবার দুপুরে কথাকাটাকাটি হয়। কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোশাররফ হোসেন জিসানের নেতৃত্বে ১৮ থেকে ২০ জন জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রিপন গ্রুপের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। আগে থেকে খবর পেয়ে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে রিপন গ্রুপের সদস্যরাও। ফলে উভয় গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জনের মতো আহত হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় মিরসরাই থানা পুলিশ এক পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করলেও অপর পক্ষকে অভিযোগের দেয়া হয়নি ।

এ ব্যাপারে সরোয়ার হোসেন রিপন বলেন, এলাকায় সকল বৈধ অবৈধ ব্যবসায় বাণিজ্য মোশাররফ হোসেন জিসান নিয়ন্ত্রণ করছে। সে এসব অবৈধ বাণিজ্য থেকে প্রশাসন ও যুবলীগের এক নেতাকে ভাগ দেয়। ফলে এলাকায় যা ইচ্ছে তাই করছে সে। যাকে ইচ্ছা মারধর করে, বেয়াদবি করছে। কোন মুরব্বি মানে না ,কাউকে ইজ্জত সম্মান দেয়না। এলাকায় ইয়াবা ফেনসিডিল, বাংলা মদ গাঁজাসহ সকল ধরনের মাদক ব্যাবসায় নিয়ন্ত্রণ করছে তার কিশোর গ্যাং। কেউ ভয়ে কথা বলে না। কেউ কোন প্রকার প্রতি উত্তর করলে নিজামপুর কলেজ, বড় দারোগারহাট ও মিরসরাই থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। যাকে তাকে মারধর করে। তার ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলে রহস্যজনক কারনে অভিযোগ নেয়া হয়না। এখন নিরুপায় হয়ে মানুষ তার অথ্যাচারের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। হামলা করে এই কিশোর গ্যাং সদস্যরা পুনরায় প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে। কিশোর গ্যাং এর হামলায় যারা যারা আহত হয়েছে তাদেরকেই মামলার আসামি দেখানো হয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা পুলিশ তাদেরকে থানা থেকে বের করে দেয়।

১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বলেন, এলাকার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত এধরণের ঘটনা ঘটে। আজকের ঘটনা একটু বড় হওয়াতে জানাজানি হয়েছে।

৮ নং ওয়ার্ড সদস্য সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে এসব কিশোর গ্যাং এর কাছে জনপ্রতিনিধিদেরও কোন দাম নেই। তারা ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতি করে। এলাকায় সামান্য সমস্যা হলেই বাহির থেকে লোক নিয়ে এলাকার লোকজনের উপর হামলা করে। এই কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাহের খালীতে গত কয়েক বছরে কিশোর গ্যাং এর হাতে ২ টি খুন হয়েছে। নতুন খুন হয়তো যে কোন মুহুর্তে হতে পারে। তাই সাহের খালী ইউনিয়নের কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ অত্যান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, আধিপত্য বিস্তার, মাদক বাণিজ্য ও চুরি-ছিনতাই নিয়ে কথা বলতে চাইলে মিরসরাই থানা অফিসার ইনচার্জ সহিদুল ইসলাম কথা শেষ না করেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।