মা-বাবা কারো ভোটার আইডি কার্ড নাই

তার বয়স মাত্র ১২ বা কিছু এদিক সেদিক হতে পারে।  নাম অনীক হোসের হৃদয়।  এসেছেন বাছাই কার্যক্রমে অংশ নিতে।  সে শোভানীয়া ফুটবল একাডেমির পক্ষে খেলার জন্য বাছাইতে এসেছে।  রেলওয়ে স্টেশন কলোনী স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র।

কিন্তু সে যে, চট্টগ্রামের ছেলে, তা প্রমানের জন্য মা-বাবা’র ভোটার আইডি কার্ড অবশ্যই জমা দিতে হবে।  কিন্তু তার সেগুলো নাই।

কেন নাই, এমন প্রশ্নে তার কোন উত্তর নাই।  মাথা নীচু করে দাড়িয়ে রয়েছে, হঠাৎ চোখের কোনে পানির দেখা পাওয়া গেল।  বারবার জিজ্ঞেস করার পরও কিছুই বলছেনা।  এবার তাকে আদরের সুরে কাছে ডেকে নিলে সে বলে ওঠে আমার মা-বাবার ডিভোর্স হয়ে গেছে।

এমন কথা শুনে বাছাই কমিটির সকলেই কেমন জানি হয়ে পড়লো।  সকলের চোখে মুখে আফসোসের একটা চিহ্ন ভেসে ওঠে।  কিন্তু ছাড় দেয়ার কোন উপায় নাই।  নিয়মের বাইরে কিছুই করা যাবে না।

তখন তাকে বলা হল, মা-বাবা যেকোন একজনের ভোটার আইডি কার্ড দিলেও হবে।  হৃদয় সেটাও পারলো না।  কারণ, সে ‘মা-বাবা’ কারো’ই সাথে থাকে না।  থাকে নানুর কাছে।

বাছাই কমিটির সকলে তার প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক হন এবং কিভাবে তাকে খেলানো যায়, তার একটা উপায় খোজার চেষ্টা করেন।  অবশ্যই তা অবৈধ পথে নয়।  তখন বাছাই কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ কথা বলেন, হৃদয়ের নানু’র সাথে।

সবকিছু বুঝিয়ে বললে, উনি হৃদয়ের মায়ের ভোটার আইডি কার্ড ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বললে এতো মুখ গোমরা করে থাকা হৃদয়ের মুখে হাসি ফোটে।  তার কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন লিটন বলেন, মিডফিল্ড ও রাইট উইং পজিশনে খেলা হৃদয়ের বড় হওয়ার যথেস্ট সম্ভাবনা রয়েছে।  তবে এ জন্য তাকে পরিশ্রম করতে হবে, ভালো কোচের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করতে হবে।

কিন্তু এ জন্য চাই পরিবারের সার্বিক সহায়তা।  সেটা কোথায় পাবে মা-বাবার সাথে না থাকা হৃদয়।  নানু কি আর সেভাবে দেখবেন।  এ ব্যাপারে লিটন বলেন, আমি-ই তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।  আমরা যতটা পারি তাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করবো।  আপনারা ওর জন্য দোয়া করবেন।