বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফুটবলাররা বাংলাদেশে আসেন কদাচিৎ। অনেক দিন পর এক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তারকা এসেছিলেন ঢাকায়। ১১ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত এই সফরে তার সান্নিধ্য পাননি দেশের কোনো ফুটবলার ও ফুটবলসংশ্লিষ্ট কেউ। এ নিয়ে ফুটবলাঙ্গনে ভর করেছে হতাশা।
সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। নেমেই জানলেন আর্জেন্টিনার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন গোলরক্ষক এমিলিয়েনো মার্টিনেজ বাংলাদেশ ছাড়ছেন কিছুক্ষণের মধ্যেই।
সাফের ফাইনালে না যাওয়ার বেদনার সঙ্গে মার্টিনেজকে না পাওয়ার বেদনাও যোগ হলো জিকোর কণ্ঠে, ‘দেখা হলে কিছু টিপস নিতাম। বাংলাদেশে আসল দেখা হলো না। আর কখনো দেখা হবে কিনা তাও জানি না। ফেডারেশনের মাধ্যমে আসলে বা ফেডারেশনে যোগাযোগ করলে হয়তো আমরা ফুটবলাররা সুযোগ পেতাম সাক্ষাতের। ’
মার্টিনেজকে ঢাকায় এনেছেন ফান্ডেড নেক্সট নামক এক আইটি কোম্পানি। তাদের আমন্ত্রিত অতিথির তালিকায় ফুটবলারদের না রাখা নিয়ে আগেরদিনই সংবাদ মাধ্যম প্রশ্ন করেছিল। এর উত্তরে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ বলেছিল, ‘বাংলাদেশ দল ভারতে। জাতীয় ফুটবলাররা দেশে থাকলে অবশ্যই আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানাতাম। ’
এই বক্তব্যের সঙ্গে খুব একটা একমত হতে পারছেন না জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি। তার মতে, ‘জাতীয় দল দেশের বাইরে কিন্তু দেশে অনেক ফুটবল ব্যক্তিত্ব রয়েছে। তাদের অন্তত দুই একজনকে আমন্ত্রণ জানানো যেত। অনেক সাবেক ফুটবলার এবং সংগঠক এখন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব। তাদের কাউকে রাখলে এই অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য্য আরো বৃদ্ধি পেত। ’
এমিলির দৃষ্টিতে, ‘এত বড় ফুটবলার বাংলাদেশে আসলেন অথচ ফুটবলের কেউই তার সান্নিধ্য পেল না। সাধারণ মানুষের আর্জেন্টিনার প্রতি যে উন্মাদনা সেটাও দেখতে পেলেন না এমি মার্টিনেজ। একজন সাবেক জাতীয় ফুটবলার এবং আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে বিষয়টি আমার জন্য খুব দুঃখজনক। ’
অনেক তারকা সাবেক ফুটবলার আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মার্টিনেজকে দেখার আমন্ত্রণ পাননি। অন্য দিকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সপরিবারে মার্টিনেজের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এ নিয়ে নানা মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ফুটবলসংশ্লিষ্ট ছাড়াও অন্য ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদ, সংগঠক সবাই ফুটবলের কাউকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।