নিজের ভাগ্য গড়তে নয়, এসেছি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করবোই। যারা চায়নি উন্নয়ন হোক, এটা তাদের প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ।
শনিবার (১ জুলাই) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কাল এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করে গেছেন। তার স্বপ্ন পূরণ করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়া আমার লক্ষ্য। প্রত্যেকেরই ঘর-জমি ও জীবিকার ব্যবস্থা আমরা করতে পারব, ইনশাল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আড়াই কোটি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছি। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ওষুধ দিচ্ছি, শিক্ষার ব্যবস্থা করছি। এ ছাড়া বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, কিছু মানুষ আছেন যারা দেশের ভালো দেখতে পান না। যারা দেখে না, যারা চোখ থাকতেও অন্ধ, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার নেই। শুধু এটাই বলব, তারা দেখে না কিন্তু ভোগ করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশ লাখো শহীদের রক্তের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের জন্য জাতির পিতা সংগ্রাম করে গেছেন। এই বাংলাদেশ সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে। বাংলাদেশের মানুষ মর্যাদা নিয়ে চলবে। সেটাই আমি চাই।
তিনি আরও বলেন, যারা চায়নি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক, এ দেশের মানুষ পেট ভরে ভাত খাক, চিকিৎসা পাক, শিক্ষা পাক তাদের কাছে আমার চ্যালেঞ্জ। আমার বাবা যে লক্ষ্য নিয়ে এই দেশ স্বাধীন করেছেন সেটা আমি পূরণ করবো। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন করা এটাই আমাদের লক্ষ্য।
একটা মহল চোখ থাকতে অন্ধ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমরা আমাদের দেশের ভাবমূর্তি সারা বিশ্বে উজ্জ্বল করতে পেরেছি। কিছু তো আছেই যারা দেশের কোনো ভালোই চোখে দেখে না। যারা দেখে না চোখে, চোখ থাকতে অন্ধ তাদের বিষয়ে কিছু বলার নাই। তারা দেখে না কিন্তু ভোগ করে।
কিছু মানুষ সারাদিন কথা বলার পরও বলে কথা বলার অধিকার নাই অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, সারাদিন কথা বলে তারপর যদি বলে কিছুই বলতে পারি না। কথা বলার অধিকার নাই। সব বলেই বলে কথা বলার অধিকার নাই। এদের ব্যাপারে করুণা করা ছাড়া কিছুই করার নেই। এদের আমরা করুণাই করি।
রাস্তাঘাট, পুল-ব্রিজসহ কোটালীপাড়ার অবকাঠামো উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এই কোটালীপাড়ায় আসতে গেলে কষ্ট ছিল, চলাচলে কষ্ট ছিল। এখন আর সে কষ্ট নেই।
কোটালীপাড়াবাসীর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা-মা, নিজের ভাই নেই। আপনারাই আমার আপনজন। আপনারাই আমার সব কাজ করে দেন।
পদ্মা সেতু সুফলের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পদ্মা সেতু, মিথ্যা অপবাদ দিতে চেয়েছিল, নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি, এদেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি। তাদের অপবাদের প্রতিবাদ করে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করতে পেরেছি। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। সেই শক্তিটা কিন্তু আপনারা যুগিয়েছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
শুভেচ্ছা বিনিময় শুরুর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পৌঁছে সেখানে তিনি একটি নিম, একটি বকুল এবং একটি আম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে নবনির্মিত কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।
এর আগে গোপালগঞ্জে দুই দিন সফরের অংশ হিসেবে শনিবার (১ জুলাই) বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কোটালীপাড়া এসে পৌঁছান। এর আগে তিনি সকাল ৮টায় সড়ক পথে গণভবন থেকে রওয়ানা হন। এ সফরে তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
কোটালীপাড়ার কর্মসূচি শেষে দুপুরের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা টুঙ্গিপাড়ার নিজের গ্রামের বাড়িতে যাবেন। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করবেন। রাতে টুঙ্গিপাড়ার নিজ বাড়িতে অবস্থান করবেন শেখ হাসিনা।
সফরের দ্বিতীয় দিন রোববার (২ জুলাই) সকালে তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। দুপুরে নিজের গ্রামের বাড়িতে মধ্যাহ্নের বিরতি দেবেন। গোপালগঞ্জ সফর শেষে বিকেলে সড়ক পথে ঢাকায় ফিরে আসবেন শেখ হাসিনা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগমণকে ঘিরে গোটা গোপালগঞ্জে উৎসবের আমেজ। শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে রং-বেরঙের ব্যানার-পোস্টার, প্ল্যাকার্ড টানানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলাবাসী বলছেন, তাদের ঈদ উৎসবের আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে শেখ হাসিনার এ আগমন।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী আসন। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত এলাকার বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন। চলতি বছরে একাধিকবার তিনি টুঙ্গিপাড়ায় সফরে গিয়েছিলেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
এমএইচএফ