মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার রাহাতপুর বালু মহাল বাতিল ও আবাদি জমি রক্ষার দাবিতে শত শত মানুষ মানববন্ধন করেছে। শনিবার দুপুরে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের জোতকাশি মসজিদ প্রাঙ্গণে দিনমজুর ও কৃষকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমরা ২০২২ সালেও জমির খাজনা পরিশোধ করেছি। অথচ সেই আবাদি জমির ৩৬.৪৩ একর ‘রাহাতপুর বালু মহাল’ নামে ইজারা দিয়ে কৃষিজমি ও বসতভিটার উপর হামলা চালানো হচ্ছে। নির্ধানিত বালু মহালের বাইরে গিয়ে আশেপাশের মৌজা থেকেও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষেরা ইতোমধ্যেই মানববন্ধন, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ‘রাহাতপুর বালু মহাল ও আশপাশের হাজারো মানুষের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমাদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন হুমকির মুখে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সরকার ঘোষিত রাহাতপুর বালু মহাল ইজারার নামে একটি প্রভাবশালী চক্র সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নদীর ভেতর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজারের চারপাশে সর্বক্ষণ টহল দিচ্ছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এতে কেউ প্রতিবাদ বা বাধা দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না। এ কারণে গ্রামের মানুষ ভয়ে-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কৃষকরা জমিতে কাজ করতে পারছেন না। রাতের অন্ধকারে জেগে থাকা চরাঞ্চল এখন ভয়ের রাজত্বে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় শিশু ও নারীরাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, “সরকার দ্রুত রাহাতপুর বালু মহাল বাতিল না করলে আমরা কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবো।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম ঠান্ডু, মো. শামসুল হক মন্ডল, মো. মহিদুর রহমান, মো. আমজাদ ফকির, আলী আহমেদ শান্তি, আব্দুল মান্নান (মেম্বার), খোরশেদ আলম মোল্লা ও মাহাম্মদ আলীসহ অনেকে।
তাঁরা সরকারের কাছে অবিলম্বে সন্ত্রাসী বাহিনী প্রত্যাহার, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং আবাদি জমি ও বসতি রক্ষার জোর দাবি জানান।