মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ তেওতা গ্রামে রাম কৃষ্ণ হালদার ও অজিত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমি শর্ত ভঙ্গ করে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমি বিক্রি কিংবা হস্তান্তরের নিয়ম না থাকলেও শর্ত ভঙ্গের কারণে বন্দোবস্ত বাতিল হলে প্রতারণা ও আর্থিক ঝুকির শঙ্কায় পড়েছেন কয়েকজন নদী ভাঙন কবলিত ক্রেতা। এছাড়াও তেওতা বকুলতলা সর্বজনিন কালী মন্দিরের জমিও দখলের পায়তারা করছেন রাম কৃষ্ণ হালদারের চাচা গোবিন্দ চন্দ্র হালদার।
তেওতা ভূমি অফিস ও স্থানীয়রা জানায়, তেওতা জমিদার বাড়ির পুকুরের উত্তর পাশে দক্ষিণ তেওতা মৌজার কয়েক একর জমি রাম কৃষ্ণ ও অজিতের পরিবার আলাদাভাবে ৯৯ বছরের জন্য চাষাবাদ করার জন্য বন্দোবস্ত নেয়। রাম কৃষ্ণ বন্দোবস্তের শর্ত ভঙ্গ করে মো. মজিবুর রহমানের কাছে ৮ শতাংশ ৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা ও মোক্তার শেখের কাছে ২ শতাংশ ১ লাখ ৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। আর মো. মজুন শেখের কাছে ৩ শতাংশ জমি ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ও আহমেদের কাছে ৩ শতাংশ ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন অজিত কুমার হালদার। এদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিলেও এখন পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। তবে নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে অজিত কুমার জমি হস্তান্তর দলিল করেছেন বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। তারা বলেন,‘জমির দাম নির্ধারণ করে কিনে নিয়ে মাটি ভরাট করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। যদি ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলাসহ যথাযথ আইনি সহায়তা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে রাম কৃষ্ণ হালদার ও অজিতে কুমার জমি বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। তবে, বন্দোবস্ত নেয়া জমি বিক্রি কিংবা হস্তান্তর করা যায় কিনা? তা নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি। জমির বন্দোবস্তের কাগজপত্র দেখতে চাইলে রাম কৃষ্ণ হালদার জানান, আরিচা ঘাটে রফিকের কাছে কাগজপত্র রয়েছে। তাদের কাছে কাগজপত্র নেই।
এদিকে, রাম কৃষ্ণ হালদারের চাচা গোবিন্দ হালদারের নিজস্ব জমি থাকা সত্ত্বেও বকুলতলা সর্বজনিন কালী মন্দিরের জমি দখল করেছেন। বছর খানেক আগে মন্দির কমিটির লোকজন বেশ কয়েকবার পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে স্থায়ীয় আওয়ামীলীগের দোসর ও নেতা-কর্মী নিয়ে হুমকি-দামকি দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন রাম কৃষ্ণ হালদার। যে কারণে মন্দিনের সীমানা আজও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি মন্দিরের জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের জন্য পাকা ভিটি তৈরি করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় তেওতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহশীলদারের কাছে অভিযোগ করা হলে তিনি এসে ভিটি নির্মাণে বাধা দেন। পরে রহস্যজনকভাবে কাজ চালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে মন্দির কমিটির লোকজন। এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নতুল নাঈম বলেন,‘ এ ব্যাপারে কেউ জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আমরা ব্যবস্থা নেব।’