চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বারবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা, নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতার পরও উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেই গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ পার্কিং। ফলে পার্কিংটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিনিয়তই ছোটবড় অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এসব দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও দিনদিন বাড়ছে।
সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগতির সিডিএম বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অবৈধ পার্কিংয়ে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি প্রাইভেটকারের উপর উঠে যায়। এ ঘটনায় পথচারীসহ ৬ বাস যাত্রী মারাত্মক আহত হন।
জানা গেছে, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সাথে-সাথে মিরসরাই উপজেলা নিরবাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুনরায় অবৈধ পার্কিংসহ ফুটপাত দখলকারীদের সতর্ক করেছেন।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিডিএম বাসটির গতি অনেক বেশি ছিল। মিরসরাই পৌরবাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িকে চাপা দেয়। এতে বাসযাত্রীসহ কয়েকজন পথচারী আহত হন। আহতদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুত্বর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রাইভেটকার চালক জানান, মহাসড়কের পাশে প্রতিদিন ৩০-৪০টি গাড়ি পার্কিং করা হয়। প্রতিটি গাড়ি থেকে পৌরসভার বাজার ইজারাদার ৩০০-৪০০ টাকা আদায় করে।
বিষয়টি স্বীকার করে মিরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন জানান, পৌরসভার নানান ধরনের খরচ আছে। এসব খরচের জন্য পৌরবাজার লিজ দেয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট টার্মিনাল না থাকায় সড়কের পাশেই বাধ্য হয়ে গাড়ি পার্কিং করতে হয়।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ফুটপাত দখল করে দোকান, বেপরোয়া গতি এবং গতিনিয়ন্ত্রক না থাকায় প্রতি নিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। শিগগির মহাসড়কের ওপর পার্কিং করা সব গাড়ি ও দোকানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশ বর্তমান/এআই