মরার উপর খাঁড়ার ঘা

রাজধানীতে লোডশেডিংয়ের মধ্যে তীব্র পানি সংকট

মরার উপর খাঁড়ার ঘা-এর মত লোডশেডিংয়ের মধ্যেই রাজধানীতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়াসা পানি সরবরাহ করতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। লোডশেডিংয়ের কারণে চাহিদা অনুযায়ী পানি উৎপাদন এবং সরবরাহ করতে না পারায় রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকাতেই দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। ট্রাকে পানি সাপ্লাই এবং জেনারেটরে পাম্প চালানোর মতো আপদকালীন বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখলেও তাতে সমস্যা মিটছে না নগরবাসীর। এর জন্য ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ লোডশেডিংকেই দায়ী করেছে।

রাজধানীর আজিমপুরে বটতলা এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে এক ঘণ্টাও পানি পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। মগবাজার-মধুবাগ এলাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরেই চলছে পানির সংকট। এ ছাড়া বনশ্রী, কলাবাগান, পরীবাগ, শাহজাদপুর, খিলগাঁওয়ে দিনজুড়ে থাকছে পানির সংকট। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ওয়াসার আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে একাধিকবার অভিযোগ করে কোনও প্রতিকার মিলছে না। আবার ওয়াসা পানির গাড়ি পাঠাবে বলেও পাঠাচ্ছে না।

ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র মতে, মডস জোন ৩ এর নীলক্ষেত ও আজিমপুর, জোন ৫ এর মহাখালী, কাওরান বাজার ও তেজগাঁও, জোন ৬ এর ফকিরাপুল, মগবাজার ও রামপুরা-বনশ্রী, জোন ৯ এর নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত ও উত্তরা মডেল টাউন এবং জোন ১০ এর মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় পানি সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কমে গেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে কয়েকটি জোনে পানি সরবরাহে সংকট হচ্ছে বলে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

তারা বলছে, চাহিদার তুলনায় বেশি পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ওয়াসার। অন্যান্য সময় বা শীতকালে রাজধানীতে দৈনিক পানির চাহিদা থাকে ২১০ কোটি লিটার। কিন্তু গরমকালে এর চাহিদার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৬০ কোটি লিটারে। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার প্রতিদিন প্রায় ২৯০ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও তারা তা উৎপাদন করতে পারছে না।

জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার ৫টি পানি শোধনাগার রয়েছে। তবে ৪টি শোধনাগার থেকে পানি পাচ্ছে সংস্থাটি। চলতি বছরে উপরি তলের পানির উৎপাদন ৭০ শতাংশে উন্নীত করার কথা থাকলেও সেই লক্ষ্য পূরণ এখনও করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা। বর্তমানে উপরি তলের পানি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। আর বাকি ৬৫ শতাংশ পানি তারা পাচ্ছে ভূগর্ভ থেকে।

ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান জানিয়েছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসার উৎপাদনের ইকুইপমেন্ট বা যন্ত্রপাতিতে কোনও সমস্যা নেই। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি না পাওয়ার একমাত্র কারণ লোডশেডিং। তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পানি সরবরাহ করতে ৪৮টি গাড়ি এবং জেনারেটর দিয়ে পাম্পগুলোকে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।’

তাকসিম এ খান বলেন, পানি সাপ্লাই দেওয়ার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিছুদিন ধরে আমরা ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ফলে আমাদের পাম্পগুলো বন্ধ থাকছে। লোডশেডিংয়ের কারণে পানিতে প্রেসার দিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। পাম্পের ডিপ টিউবওয়েলগুলো বন্ধ থাকছে। ফলে পানি পৌঁছানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসার ১০টি জোনের মধ্যে ৪টি জোনে বেশি সমস্যা হচ্ছে। গাড়িতে করে পানি সরবরাহ করতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কারণ গাড়িতে অনেক সময় পানি ভর্তি করা যাচ্ছে না। পানি সরবরাহ করতে আমাদের ৪৮টি গাড়ি দিয়ে সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জেনারেটর দিয়ে পাম্পগুলোকে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু জেনারেটরে বিদ্যুতের মতো প্রেসার পাওয়া যাচ্ছে না। লোডশেডিং কমে গেলে এই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে বলে জানান তিনি।

এদিকে কয়লা সংকটে ৫ জুন পটুয়াখালীর পায়রা ও ৯ জুন চট্টগ্রামের বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার এমন দুঃসংবাদের মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে ছেড়ে আসা চায়না পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জে হ্যায় গতকাল শনিবার ভোরে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে। গতকাল সকাল থেকেই কয়লা খালাস ও পরিবহনের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে লোডশেডিং দূর হবে। আর এতে পানি সংকট অচিরেই দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এমএফ