দুয়েকদিনের মধ্যেই বাড়ছে মন্ত্রিসভার আকার। নতুন করে যুক্ত হতে পারে ৭ থেকে ৮ নতুন মুখ। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রিসভার একজন সদস্য। তিনি জানান, আরও একজন পূর্ণমন্ত্রী, চারজন প্রতিমন্ত্রী ও তিন জন উপমন্ত্রী যোগ হতে পারেন মন্ত্রিসভায়। শনিবার সন্ধ্যায় তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এদিকে সরকারি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার দুয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রীর দফতর পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্যে থেকেও তিন-চারজন আসতে পারেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১১ জানুয়ারি শপথ নেয় নতুন মন্ত্রিসভা। এতে অভিজ্ঞ ও নতুন মুখ নিয়ে ৩৭ জন সদস্য জায়গা পান। মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়ার বিষয়ে শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছে। শোনা যাচ্ছিলো, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভার সদস্য বাড়বে। সংসদে ৪৮ সংরক্ষিত নারী সদস্যের মনোনয়ন দিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আর বিরোধী দল জাতীয় পার্টি দিয়েছিল দুজনকে। তাদের সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সবশেষ বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী বাদে পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ১১ জন। ৩৭ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় কোনো উপমন্ত্রী নেই। এখনও দুটি মন্ত্রণালয়ে কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দেয়া হয়নি। এর মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে দুজন নারী সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা আলোচনায় রয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভায় বড় বড় বেশ কিছু মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এসব মন্ত্রণালয়ে আগে একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী ছিলেন। সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত একজনকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। ওই নারী সদস্য এবার দ্বিতীয় দফায় সংরক্ষিত আসনে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েও একজন প্রতিমন্ত্রী দেয়া হতে পারে। এরআগের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন শামসুল আলম। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও একজন প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী দেয়া হতে পারে। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও একজন প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি একজন পূর্ণ মন্ত্রী দেয়া হয়েছে বরাবরই। এবার এখন পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক একাই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এই মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী কিংবা বিভাগ ভাগ করে আরেকজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এদিকে বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে বিকেলে সচিবালয়ে ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। এ সময় মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন, ‘আমার কাছে এখন পর্যন্ত এরকম কোনো সংবাদ নেই।’