‘মনোনয়ন বোর্ড যে আমাকে প্রার্থী করবে, তা আমার বিশ্বাস ছিল’
দেশ বর্তমানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মহিউদ্দিন বাচ্চু
মহিউদ্দিন বাচ্চু। চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনের (ডবলমুরিং-হালিশহর-খুলশী) উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। মনোনয়ন লড়াইয়ে ২৮ জনকে ডিঙিয়ে নৌকার টিকিট পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের সাবেক এই আহ্বায়ক। আগামী ৩০ জুলাই এ আসনের উপনির্বাচনের ভোট। মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে গতকাল বুধবার দুপুরে মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে কথা বলেছেন দেশ বর্তমানের সিনিয়র রিপোর্টার সালাহ উদ্দিন সায়েম।
প্রশ্ন: মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে কতটুকু প্রত্যাশী ছিলেন?
উত্তর: আমি তৃণমূল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতি করে আসছি। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এসব কারণে স্বাভাবিকভাবে আমি প্রত্যাশী ছিলাম। মনোনয়ন বোর্ড যে আমাকে প্রার্থী করবে, তা আমার বিশ্বাস ছিল।
প্রশ্ন: ২৯ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে আপনাকে কেন বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন?
উত্তর: প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু কৌশল থাকে। আমার ধারণা, মনোনয়ন বোর্ড আমাকে বিশ্বাস করেছে। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনা করে ২৯ জনের মধ্যে আমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: সেক্ষেত্রে কি তাহলে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের মতো ত্যাগী নেতার প্রতি মনোনয়ন বোর্ড আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারেনি?
উত্তর: সুজন ভাই একজন সিনিয়র নেতা। পোড় খাওয়া নেতা। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর অনেক অবদান আছে। এসব ঠিক আছে। কিন্তু যিনি আমাকে বিশ্বাস করেছেন, তিনি তাঁর মতো বিবেচনা করেছেন। সেখানে আমার-আপনার কোনো ভূমিকা নেই। এখন প্রধানমন্ত্রী কোন বিবেচনায় আমাকে বিশ্বাস করেছেন তা তো আমি বলতে পারবো না।
প্রশ্ন: মনোনয়ন পাওয়ার পর আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?
উত্তর: আমার মধ্যে মিশ্র অনুভূতি হয়েছিলো। আমি যেমন আনন্দিত হয়েছি, তেমনি মর্মাহতও হয়েছি। যারা মনোনয়ন চেয়েছেন দুয়েকজন ছাড়া অন্যদের সঙ্গে রাজপথে আমি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমার প্রাপ্তিতে আমি যেমন খুশি হয়েছি, তেমনি তাদের অপ্রাপ্তিতে মর্মাহত হয়েছি।
প্রশ্ন: আপনার মনোনয়ন পাওয়ার পেছনে কারও কি সুপারিশ ছিল?
উত্তর: সুপারিশ তো অবশ্যই আছে। এখানে তো আমি অপরাধের কিছু দেখছি না।
প্রশ্ন: নির্বাচনে তো আপনার কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই?
উত্তর: আমি মনে করি, যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা সবাই যোগ্য প্রার্থী। আমি কাউকে অযোগ্য কিংবা দুর্বল প্রার্থী মনে করি না।
প্রশ্ন: শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় জয়ের ব্যাপারে নিশ্চয় আপনি শতভাগ আশাবাদী?
উত্তর: আমি যখন দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছি, তখন কেন্দ্রের কাছে বার্তা দিয়েছি, আমি জয়ী হতে পারবো।
প্রশ্ন: বিএনপির প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন কি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে?
উত্তর: এটা ঠিক যে, বিএনপির প্রার্থী থাকলে নির্বাচনটা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতো। কিন্তু নির্বাচনে এখন যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদেরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস করি।
প্রশ্ন: হলফনামায় আপনি কেন নিজেকে স্বশিক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: আমার যোগ্যতা যা আছে তাই লিখেছি।
প্রশ্ন: আপনি কত বছর ধরে রাজনীতি করছেন?
উত্তর: আমার রাজনীতির বয়স এখন ৪৩ বছর।
প্রশ্ন: কিন্তু দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে আপনার বিরুদ্ধে তো কোনো মামলা হয়নি? যা আপনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
উত্তর: মামলা ছিল কিন্তু খালাস পেয়েছি।
প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে কয়টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল?
উত্তর: এই মুহূর্তে তা আমি বলতে পারবো না।
প্রশ্ন: আপনি নির্বাচিত হলে সময় পাবেন তিন মাস। এতো অল্প সময়ে কী করতে পারবেন?
উত্তর: আমি চেষ্টা করবো যতটুকু কাজ করা যায়। একজন সাংগঠনিক কর্মী হিসেবে কাজ করার দক্ষতা আমার আছে।
দেশ বর্তমান: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মহিউদ্দিন বাচ্চু: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
দেশ বর্তমান/এআই