মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হিরো আলমের আপিল

নোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন আলম ওরফ হিরো আলম। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসিতে আপিল করেন হিরো আলম। গেল ৩ ডিসেম্বর তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আপিলের পর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে হিরো আলম সাংবাদিকদের বলেন, “ছোটখাটো ভুল হয়েছে। আপিলে ইসি থেকে প্রার্থিতা ফেরত পাব বলে আশা করি।” ইসি থেকে প্রার্থিতা ফেরত না পেলে কী করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে হিরো আলম বলেন, “আগেও প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। পরে হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছি। এবারও কমিশনে ব্যর্থ হলে হাইকোর্টে যাব।” মনোনয়ন বাতিল প্রসঙ্গে বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, “দলীয় প্রার্থী হলেও মনোনয়নপত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘর পূরণ করেছেন হিরো আলম। রাজনৈতিক দলের ঘরে লিখেছেন ‘প্রযোজ্য নহে’। দলীয় মনোনয়নের মূল কপি তিনি জমা দেননি, ফটোকপি দিয়েছেন।” আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে ভোটার তালিকার ১% ভোটারের সমর্থনের তথ্য জমা দিতে হয়, সেটাও দেননি হিরো আলম। হলফনামার সঙ্গে সম্পদের আয়-ব্যয় বিবরণী তিনি জমা দেননি। এছাড়া তার হলফনামা নোটারি করা থাকলেও সেখানে স্বাক্ষর করেননি। সব মিলিয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। হিরো আলম ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এ বছরের শুরুতে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেন। সবশেষ তিনি ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনেও অংশ নেন। প্রতিবারই ১% ভোটারের সই জটিলতার কারণ দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। প্রথম দুইবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। আর ঢাকার উপ-নির্বাচনে ইসিতে আপিল করেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ছাড়পত্র পেয়ে যান। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসিতে আপিল করতে পারবেন। ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর আপিল নিষ্পত্তি করবে ইসি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।