ভোটের হাওয়া: চট্টগ্রাম-৮ বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগে প্রার্থী বেশী

জিয়াউল হক ইমন, চট্টগ্রাম:

বোয়ালখালী-চান্দগাঁও এবং পাঁচলাইশ নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসন। এই সংসদীয় আসনে বর্তমানে (একাদশ সংসদ) এক মেয়াদে তিন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। যেখানে প্রথমে মহাজোটের জাসদ নেতা মঈনুদ্দিন খান বাদল সাংসদ নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুর পর এই আসনে উপনির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। চলতি বছরে তাঁর মৃত্যুর পর আবারো উপনির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ। এই সাংসদের মেয়াদ নয় মাস না পেরুতেই আবারো ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

গত নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসন এলাকার আলোচিত বিষয়ছিল কালুরঘাটে রেল-কাম সড়ক সেতু নির্মাণ। কিন্তু নতুন সেতু না হয়ে সেখানে পুননির্মাণ হচ্ছে পুরাতন কালুরঘাট সেতু। ফলে এবার বোয়ালখালীবাসী সেতুটি পুননির্মাণ না করে, চায় নতুন দু’মুখী সেতু। আগামী নির্বাচনে এই এলাকায় নতুন সেতু নির্মানের প্রসঙ্গটি সামনে আসবে বলে আলোচনায় আছে। চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত এই আসনটি চট্টগ্রামের-৮ নম্বর হলেও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টির মধ্যে এটির অবস্থান ২৮৫। এই সংসদীয় এলাকায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (২০১৮) মোট ভোটার রয়েছে ৪,৮৩,১৪৫ জন। এই আসনে বসে নেই প্রধান দুই দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এবার দল থেকে মনোনয়ন পেতে বিএনপির  চেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেশী। এই আসনে বর্তমান সাংসদ নোমান আল মাহমুদ আবারো মনোনয়ন চাইবেন সেটা স্বাভাবিক। তবে দল থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুছ ছালাম। এছাড়াও মনোনয়ন নিয়ে এলাকায় জোর গুঞ্জন আছে স্ট্যার্ন্ডাড ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহেদুল হক, বিজিএমইএ’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, সাবেক রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার কফিল উদ্দিন, সাবেক সাংসদ ও জাসদের কার্যকরী সভাপতি প্রয়াত মঈন উদ্দিন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান, সাবেক সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদের স্ত্রী শিরিন আহমেদ। এছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে জোর লবিং করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনসহ অনেকেই। অন্যদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবে বিগত উপনির্বাচনে এই আসন থেকে দলের মনোনয়ন পাওয়া দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। এছাড়াও দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে আলোচনায় আছে নগর বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ ও  দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খানের নাম। এছাড়াও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবে বলে জানা গেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আহমেদ খলিল খানও।

এই আসনে মহাজোট থেকে বিএনএফের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এবারও জোটের প্রার্থী হতে জোর লবিং চালাচ্ছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও অন্যান্যবারের মতো ইসলামী ফ্রন্টের সেহাব উদ্দিন মুহাম্মদ আবদুস সামাদ, ইসলামিক ফ্রন্টের এস এম ফরিদ উদ্দীন এবারো দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে মাঠে থাকবেন বলে জানা যায়। তবে এ আসনে এখনো নিষ্ক্রিয় জাতীয় পাটির নেতা-কর্মিরা। গত বেশ কয়েকদিন ধরে এই আসনের বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই আসনে নির্বাচিত হওয়া সব সাংসদই বোয়ালখালী বাসীর প্রাণের দাবী ও আলোচিত বিষয় কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নির্বাচিত কোনো সাংসদ এ পর্যন্ত এটার বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। ফলে এই এলাকায় নতুন রেল-কাম সড়ক সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নেয়াসহ এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে সক্ষম এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। জোট ও দল থেকে বারবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় এই সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান বর্তমানে শক্ত। অন্যদিকে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি গ্রুপিং মিটিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারলে তাদের প্রার্থীরও জয় হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মিরা। সবমিলে প্রধান দুদলই তাদের স্থানীয় কোন্দল মিটিয়ে একক প্রার্থী দিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস রয়েছে। তবে প্রধান দুদলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলে জয় পাওয়া কঠিন সমীকরণ মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।