ভোটচোরদের জনগণ কখনও ছেড়ে দেয় না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভোট চুরি করলে জনগণ কখনও ছেড়ে দেয় না।  আমাদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়।  আমরা ভোট চুরি করতে যাবো কেন!  জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়। ’

ভোট চুরি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট চুরি করলে জনগণ জানে সেই সরকারকে কীভাবে উৎখাত করতে হয়।

আজ মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে বেলা ১১টার পর রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি জিতবে কীভাবে! তারা এক আসনে তিন প্রার্থী দেয়।  নির্বাচনে বিএনপির নমিনেশন হচ্ছে ‘ফেল কড়ি মাখো তেল’।  আমার কাছে বিএনপির দুইজন নেতা অভিযোগ করে বলেছেন, নির্বাচনে নমিনেশনের জন্য তারেক টাকা চেয়েছে।  টাকা দিতে না পারলে বাদ।  ওইভাবে নির্বাচনে জেতা যায় না।  যে দলের এই অবস্থা তারা গণতন্ত্র উদ্ধার করবে!

উদ্বোধন পর্ব শেষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্ররা শিক্ষাগ্রহণ করবে।  শিক্ষাগ্রহণ করে উপযুক্ত নাগরিক হবে, দেশের দায়িত্বভার নেবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।  আমি বলেছিলাম, কেবল নিজেরা না, যখন ছুটিতে বাড়িতে যাবে কোনো নিরক্ষর মানুষ পেলে তাদের স্বাক্ষরজ্ঞান দেবে।  ছাত্রলীগ সেটাই করেছিল।  নিজ নিজ গ্রামে তারা শিক্ষা ছড়িয়েছিল এবং তার রিপোর্টও আমাকে দিয়েছিল।

ছাত্রলীগের সব নেতা-কর্মীকে বিজয়ের মাসের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেই ছাত্রলীগের অবদান রয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে রাতের অন্ধকারে সংবিধান লঙ্ঘন করে, সেনা আইন লঙ্ঘন করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়।  অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেই তার অত্যাচার-নির্যাতন শুরু হয়।  আমাদের নিরীহ ছাত্রদের হাতে সে অস্ত্র তুলে দিয়েছে, মাদক তুলে দিয়েছে, তাদেরকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করেছে।  প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি।  শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছিল তারা।  শুরু হয় সেশনজট।’