রাশিয়া থেকে আসা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আগামীকাল ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইউরেনিয়াম জ্বালানি হস্তান্তর করবেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশনের মহাপরিচালক রোসাটম আলেক্সি লিখাচেভ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি তাজা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় গত বৃহস্পতিবার। রাশিয়া থেকে একটি বিশেষ এয়ার কার্গোর মাধ্যমে চালানটি ঢাকায় এসে পৌঁছায়। পারমাণবিক জ্বালানি আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. এম শওকত আকবর। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটম ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিপি) নির্মাণে নিয়োজিত রয়েছে। শওকত আকবর বলেন, সরকার আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে আরএনপিপির প্রথম ইউনিট এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দ্বিতীয় ইউনিট চালু করার আশা করছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল নিয়ে মোংলা বন্দরে এসেছে রাশিয়ান জাহাজ ‘এমভি ইয়ামাল অরলান’। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বাণিজ্যিক জাহাজটি মোংলা বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে নোঙর করে। জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইন্টারপোর্ট শিপিং এজেন্সি লিমিটেড খুলনার ম্যানেজার অসিম সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অসিম সাহা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬৮টি প্যাকেজে ২ হাজার ১২১ দশমিক ৩৭ মেট্রিক টন মালামাল নিয়ে মোংলা বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে নোঙর করেছে বাণিজ্যিক জাহাজটি। এর আগে গত ৩১ আগস্ট রাশিয়ার পিটার্সবার্গ বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।
আমদানি করা এসব মালামাল বন্দর জেটিতে খালাস করে সড়ক পথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেয়া হবে। এর আগে ১১ জুলাই এমভি মার্গারেট, ২ জুলাই এমভি লিবার্টি হারভেস্ট, ২৯ মে এমভি আনকা স্কাই, ৬ মে এমভি আনকা সান ও ২৫ এপ্রিল এমভি ইয়ামাল অরলান সরাসরি রাশিয়া থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মালামাল নিয়ে আসে মোংলা বন্দরে।