ভারতে প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সানিয়া মির্জা নামের এক মুসলিম নারী। ইন্ডিপেনডেন্ট নিউজ এ খবর দিয়েছে।
সানিয়া ভারতের উত্তর প্রদেশের মির্জাপুরের বাসিন্দা। তার বাবা শহীদ আলী টেলিভিশন মেরামতের কাজ করেন। সানিয়া ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির পরীক্ষায় (এনডিএ) পাস করেছেন। সানিয়া ভারতের দ্বিতীয় নারী যিনি ফাইটার পাইলট নির্বাচিত হয়েছেন। এনডিএ পরীক্ষায় ১৪৯তম স্থান পেয়েছেন সানিয়া।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এএনআই জানিয়েছে, সানিয়া উত্তর প্রদেশের প্রথম ভারতীয় বিমান বাহিনীর ফাইটার পাইলটও হতে চলেছেন।
সানিয়া নিজ গ্রামের পণ্ডিত চিন্তামণি দুবে ইন্টার কলেজে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর মির্জাপুরের গুরু নানক গার্লস ইন্টার কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়ে তিনি উত্তর প্রদেশ বোর্ডে মেধা তালিকায় ১২তম হন। এরপর তিনি সেঞ্চুরিয়ন ডিফেন্স একাডেমিতে এনডিএ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
সানিয়া মির্জা বলেন, ‘ফাইটার পাইলট শাখায় নারীদের জন্য মাত্র দু’টি আসন সংরক্ষিত ছিল। প্রথমবার আমি ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় একটি আসন লাভে সক্ষম হয়েছি। একথা প্রচলিত যে ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকলেই তাতে নির্বাচিত হয়। তবে হিন্দি মিডিয়ামে পড়েও যে তা অর্জন করা যায় তা এবার প্রমাণিত হলো।’
আগামী ২৭ ডিসেম্বর পুনেতে জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমিতে যোগ দেবেন তিনি।
সানিয়ার বাবা শাহীদ আলী জানান, ‘সানিয়া প্রথম থেকেই ভারতের প্রথম ফাইটার প্লেনের পাইলট অবনী চতুর্বেদীর মতো হতে চেয়েছিল।’
সানিয়া বলেন, ‘ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট অবনী চতুর্বেদী আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করেছেন এবং তাঁকে দেখে আমি এনডিএতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আশা করি, আমি একদিন তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারব।’
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সানিয়াই হবেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) প্রথম মুসলমান যুদ্ধবিমান চালক।