ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত বেড়ে ২৩৩, আহত ৯০০

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের বালেশ্বরের কাছে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আর আহত হয়েছেন ৯০০ জনের বেশি।

ট্রেনের ভেতরে এখনো অনেকে আটকা পড়ে আছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

শুক্রবার (২ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উড়িষ্যার বালাসোর জেলার বাহাঙ্গাবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এনডিটিভি জানায়, চেন্নাইগামী করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে কলকাতাগামী বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি লাইনচ্যুত বগির সংঘর্ষ হয়। ফলে করমন্ডল এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি ঘটনাস্থলে একটি মালবাহী ট্রেনের বগির ওপরও আছড়ে পড়ে। ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

ভারতের রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কলকাতাগামী বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাহাঙ্গাবাজার এলাকায় লাইনচ্যুত হয়ে পড়েছিল। চেন্নাইগামী করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা পেরিয়ে যাওয়ার সময় লাইনচ্যুত ট্রেনের বগির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। করমন্ডল এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি ঘটনাস্থলে একটি মালবাহী ট্রেনের বগির ওপরও আছড়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে নেমেছেন ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিলিফ ফোর্সের (এনডিআরএফ) সদস্যরা। রয়েছে উড়িষ্যায় ডিজাস্টার র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও (ওডিআরএএফ)। উদ্ধারকাজে ভারতের বিমানবাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফায়ারসার্ভিস ও অন্যান্য বাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে— কারণ দুর্ঘটনার শিকার করমণ্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনটির কয়েকটি কামরায় এখনও আটকা পড়ে আছেন যাত্রীরা। তাদের বের করে আনতে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

ওড়িশার মুখ্য সচিব প্রদীপ জানান, উদ্ধার অভিযান চলছে এবং আশেপাশের জেলাগুলোর সব হাসপাতালকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। আটকে থাকাদের উদ্ধারে ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিলিফ ফোর্স (এনডিআরএফ), ওডিশা ডিজাস্টার র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স, ফায়ার রেসকিউ , ৩০ জন ডাক্তার, ২০০ পুলিশ কর্মী এবং ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সকে ঘটনাস্থলে জড়ো করা হয়েছে।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক টুইটে জানান, যে উদ্ধার অভিযানে সাহায্য করার জন্য বিমানবাহিনীকেও বলা হয়েছে। এ ছাড়া এই ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য ১০ লাখ রুপি, গুরুতর আহতদের জন্য ২ লাখ রুপি এবং দুর্ঘটনায় যারা সামান্য আহত হয়েছেন তাদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন তিনি।

এদিকে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল মৃতদের পরিবারের জন্য ২ লাখ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন।

ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক।

এমএফ