আগামী জাতীয় নির্বাচন কীভাবে হবে, এই প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে পাল্টা প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ ক্যাথেরিন কুক।
বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বনানীতে সেতু ভবনে ওই বৈঠক শেষে সেতুমন্ত্রী কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্রিটিশ হাই কমিশনার সাহেবকে আমি জিজ্ঞেস করেছি, আপনাদের দেশে নির্বাচনটা কীভাবে হয়? সেখানে কি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে, হাউজ অব কমন্স কি ডিজলভ (ভেঙে দেওয়া) হয়? কেয়ারটেকার নামে কোনো সরকার কি নির্বাচনের সময় আবির্ভূত হয়?’
আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পশ্চিমা বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার নানামুখী তৎপরতার মধ্যে এই বৈঠক হয়। যুক্তরাজ্যের দূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের সঙ্গে বৈঠকের কথা তুলে ধরে বলেন, “সবার আলোচনার বিষয়বস্তু একই।
‘আগামী নির্বাচনটা কীভাবে হবে, সরকারি দল হিসাবে আমাদের ভূমিকা কী হবে, বিরোধী দলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে, নির্বাচনটা অবাধ, সুষ্ঠু কীভাবে হবে।’ ‘কাউকে জোর করে নির্বাচনে আনতে পারব না’
বাংলাদেশে কেমন নির্বাচন চান, সেই বক্তব্যে ব্রিটিশ হাই কমিশনার ‘পার্টিসিপেটরি’ বা অংশগ্রহণমূলক শব্দটা যোগ করেছেন বলে জানান ওয়ায়দুল কাদের। ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ নিয়ে বিদেশিদের বক্তব্যেও বিরক্তি প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তাদের বলা তো তারা বলবেই। নির্বাচনে আসাটা একটি দলের অধিকার। আমি তো কাউকে জোর করে নির্বাচনে নিয়ে আসতে পারব না। যে অংশ নেবে, নেবে। তারা যে শর্ত জুড়ে দিচ্ছে সেটা সংবিধানের বাইরে। আমার স্পষ্ট কথা, আমার দফা একটা। সংবিধানসম্মতভাবে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে।’
তিনি বলেন, আমাদের মূল বক্তব্য হচ্ছে, প্রত্যেক দেশে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা ও নির্বাচন একই রকম। নির্বাচন কমিশন থাকে এবং তারা নির্বাচন পরিচালনা করে, আর সরকার নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে। তারা কোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তারা শুধু রুটিন কাজ করবে আর নির্বাচন করার জন্য যে যে সহযোগিতা দরকার সেটা দেবে।
বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে ‘অদ্ভুত, উদ্ভট ও অযৌক্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আসলে বিএনপি তাদেরকে নির্বাচিত হওয়ার গ্যারিন্টি দিতে পারে, এমন ব্যবস্থার নিশ্চয়তা ছাড়া ইলেকশন করবে না। এটা তাদের পণ। তারা সংবিধান মেনে নির্বাচন করুক। ভয় কীসের, হেরে যাওয়ার?
বিএনপির এক দফা নিয়ে ‘বিদেশিদের বক্তব্য নেই’ নির্বাচন ঘিরে বিদেশি ক‚টনীতিকরা নানামুখী তৎপরতা চালালেও বিএনপির দাবিগুলোর বিষয়ে বিদেশিদের ‘কোনো বক্তব্য নেই’ বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
বিএনপির দাবির সমর্থনে ব্রিটিশ হাই কমিশনার বা অন্য কোনো বিদেশি প্রতিনিধি কথা বলেছে কিনা জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি যে দাবি করছে এ ব্যাপারে বিদেশিদের কোনো বক্তব্য নেই। আমেরিকান অ্যাম্বাসেডার নিজে বলেছেন, ‘তোমরা কোন কেয়ার করবা, কোন টেককেয়ার করবা, উই ডোন্ট কেয়ার অ্যাবাউট ইট।’
‘তারা অশান্তির পথে যেতে চায়’
নির্বাচন পন্ড করতে বিএনপি সংঘাতের পথ বেছে নেবে বলে আশঙ্কার কথা জানান আওয়ামী লীগ নেতা। ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দিলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আর শান্তিপূর্ণ থাকবে না’ বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, “এটা মির্জা ফখরুলের বলার দরকার ছিল না। ইঙ্গিত, ইশারা, আলামত কিছু ভায়লেন্সের উসকানি দিয়ে অলরেডি সৃষ্টি করেছে। তারা (বিএনপি) জানান দিচ্ছে, অশান্তির পথেই যেতে চলেছে। তারা সন্ত্রাস করবে, নির্বাচনকে পÐ করবে, এই লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে।