ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২১ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রোববার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে সঞ্চালন সংস্থা ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি শেষে এ সুপারিশ করে বিইআরসির কারিগরি কমিটি। বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল ও চারজন সদস্য শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিইআরসির কারিগরি কমিটি যে সুপারিশ করেছে সেই হিসেবে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিদ্যুতের গড়মূল্য ৭ টাকা ০২ পয়সা থেকে বেড়ে গড় মূল্য ৮ টাকা ২৩ পয়সা হবে। এ সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে গড়ে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে ১৫ দশমিক ৪৩ ভাগ।
গত নভেম্বরে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই খুচরায় দাম বাড়াতে আবেদন জমা দিতে থাকে বিতরণ সংস্থাগুলো। সেই আবেদন কারিগরি কমিটিতে মূল্যায়ন শেষে এখন গণশুনানি হচ্ছে।
ভর্তুকির ভার কমাতে গত ২১ নভেম্বর পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। এর ফলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করছে ৬ টাকা ২০ পয়সা, যা আগে ৫ টাকা ১৭ পয়সা ছিল।
ওই ঘোষণার পর ছয়টি বিতরণ সংস্থা বিপিডিবি, বিআরইবি, ডেসকো, ডিপিডিসি, নেসকো, ওজোপাডিকো খুচরা বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করতে আবেদন করতে থাকে।
সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম সকল পর্যায়ে বৃদ্ধি করা হয়। সে সময় পাইকারি পর্যায়ে দাম ৮ দশমিক ৪ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়। এতে ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিট প্রতি ৩৬ পয়সা বৃদ্ধিতে ৭ টাকা ০২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এ হারই এখন চলছে। এবার নতুন সুপারিশ কার্যকর হলে বিদ্যুতের জন্য ইউনিট প্রতি ৮ টাকা ২৩ পয়সা গুণতে হবে গ্রাহকদের।