নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে বিদেশে থেকে মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রতিবন্ধকতা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা করেছে বিএনপির দুই নেতা।
শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাতে কাঁচপুর ব্রীজের ঢালুতে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে অভিযোগ তুলে বিদেশে অবস্থান করা দুই নেতাসহ ১৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
মামলার বিবরণীর ১৯ নম্বর আসামি হাজী মো. মোমেন খাঁন কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মোমেন চলতি মাসের ১৯ তারিখে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। তিনি বর্তমানে ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
অপরজন মামলার ৩২ নম্বর আসামি কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি পীর মোহাম্মদ পিরুর ছেলে সালেহ মোহাম্মদ শান্ত। কাঁচপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক তিনি।
তার বাড়ি কাঁচপুর ইউনিয়নের পূর্ব বেহাকৈর গ্রামে। তিনি চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি থেকে চাকরি সূত্রে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।
এ দুই নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে সালেহ মোহাম্মদ শান্ত রাজনীতিতে জড়িত নয় বলে দাবি করা হলেও এলাকাবাসী তাকে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দাবি করেন। এছাড়াও মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দিয়ে জানিয়েছেন শান্ত।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নাশকতার অভিযোগে বিএনপির ৮৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত রোববার বিকেলে সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুল্লাহ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনসহ ৮৫ জনকে আসামি করা হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, সামনে নির্বাচন। ফ্যাসিবাদী সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে গায়েবি মামলা দিচ্ছে। আমাদের দুজন লোক বিদেশে রয়েছেন। তারাও এ মামলার আসামি। এতেই প্রমাণ হয় পুলিশ সরকারের পক্ষে বিএনপি নেতাদের হয়রানি করতে এই মামলা দিয়েছে।
মামলার বাদী সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। ওসি স্যার এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, দুজন নেতার বিদেশে অবস্থান করার বিষয়টি জানা নেই। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ মতে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে এমন কিছু পাওয়া গেলে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।