তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি ভোট বর্জন করলেও জনগণ ভোট বর্জন করেনি।
তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বরিশালে ৫০ শতাংশের বেশি আর খুলনায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট কাস্ট হওয়ায় প্রমাণ হয়েছে, বিএনপি ভোট বর্জন করলেও জনগণ ভোট বর্জন করে নাই। আমি মনে করি, এ থেকে বিএনপির শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।’
মন্ত্রী গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শিবুকান্তি দাশ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস ‘মিলিটারি এলো গ্রামে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক দেশ বর্তমান পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, প্রকাশক রেহেনা চৌধুরী মোড়ক উন্মোচনে অংশ নেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘সোমবার অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট দিয়েছে। বিএনপি ভোট বর্জন করেছে, ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছে, তাদের দলীয় কর্মীদেরকে ভোটে অংশগ্রহণ করতেও নিষেধ করেছে। কিন্তু তাদের নেতাকর্মীরা দুটি সিটি কর্পোরেশনেই প্রার্থী হয়েছে। জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি, নিজ বিবেচনায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। ভবিষ্যতেও যদি বিএনপি ভোট বর্জন করে জনগণ কিন্তু ব্যাপকভাবে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির বরিশাল ও খুলনায় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান ও রাজশাহী ও সিলেটে সিটি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে কিন্তু দুই সিটি কর্পোরেশনেই বিজয়ীরা তাদের চেয়ে প্রায় তিনগুণ ভোট পেয়েছে। এতে তারা বুঝতে পেরেছে যে, আগামী নির্বাচনেও তাদের কোনো ভরসা নাই। এ জন্য আগেভাগেই পাততাড়ি গুটিয়ে পরাজয়ের গ্লানি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই হয়তো তারা সেই ঘোষণা দিয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিবের ‘আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়’ বিবৃতিকে নাকচ করে দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সমস্ত পত্রিকায় লিখেছে, সমস্ত টেলিভিশন রিপোর্ট করেছে, অত্যন্ত সুষ্ঠু, সুন্দর ভোট হয়েছে। মির্জা ফখরুল সাহেব এ ধরণের গৎবাঁধা কথা, একই টেপ-রেকর্ড থেকে বের হতে পারছেন না, এটা অত্যন্ত দু:খজনক। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেক সময় সহিংসতা-গন্ডগোল হয়। সেই তুলনায় গতকাল একটি মডেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
এর আগে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাসকে নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি ‘মিলিটারি এলো গ্রামে’ উপন্যাস রচয়িতা শিবুকান্তি দাশকে ধন্যবাদ দেন এবং নিজে বইটি পড়বেন বলে জানান। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী এ সময় তার রচিত দু’টি গ্রন্থ মন্ত্রীকে উপহার দেন। মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার ও গৌরবের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালী দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের সাহিত্যের বিশাল অংশ জুড়ে লিখেছেন কবি সাহিত্যিকরা। শিবুকান্তি দাশ সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ছোটোদের জন্য লিখে আসছেন ছড়া কবিতা, গল্প,প্রবন্ধ। তার লেখা মুক্তিযুদ্ধের কিশোর উপন্যাস ‘মিলিটারি এলো গ্রামে’ বইটি পড়ে আমাদের শিশু কিশোররা জানতে পারবে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা। সাথে ইতিহাসও জানা হবে তাদের। আমি বইটির বহুল প্রচার কামনা করি।
মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দেশ বর্তমান’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, লেখক নাসির উদ্দিন চৌধুরী, দেশ বর্তমান পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক লাকি আক্তার ও বিশিষ্ট প্রকাশক রেহেনা পারভিন ও লেখক শিবুকান্তি দাশ।