নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপির আন্দোলনে দলটির নেতারা মাঠে না নামলেও ভাড়া করা লোক দিয়ে নাশকতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি জানান, সব কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিএনপি নেতাকর্মীরা একাধিক গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দলটির বেশ ক’জন অগ্নিসন্ত্রাসী ও মদদদাতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিবির এ কর্মকর্তা। ২৮ অক্টোবর থেকে ঘটানো প্রতিটি নাশকতায় জড়িত প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেনে তিনি। রাজধানীর তাঁতিবাজার মোড় এলাকায় বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগানো হয় গত ২৯ অক্টোবর, যে ঘটনায় ইতোপূর্বে ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছিল গোয়েদা পুলিশ। হারুন অর রশিদ জানান, তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত ৩০ নভেম্বর ২ মদদদাতাকে গ্রেফতার করেন তারা, যাদের একজন বংশাল, কোতোয়ালী থানার যুবদল সভাপতি পদপ্রার্থী এবং আরেকজন কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সচিব। ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, বাসে আগুন লাগানো নাশকতাকারীদের আমরা গ্রেফতার করেছি। আদালতে গিয়ে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদেরকে কে টাকা দিয়েছেন, কোথা থেকে হামলার সরঞ্জাম নিয়ে এসেছেন- সব কিছুই তারা স্বীকার করেছেন। ‘গ্রেফতারকতৃদের কাছ থেকে ডিবি জানতে পারে, ২৮ অক্টোবরের পর থেকে নাশকতা চালাতে বেশ কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করতেন তারা। কেউ করতেন নাশকতা, কেউ করতেন ভিডিও আর কেউবা ভিডিও পাঠাতেন নির্দেশদাতার কাছে। নেতারা মাঠে না নেমে, সমমনা দিনমজুরদের দিয়ে নাশকতা চালাতেন তারা’, যোগ করেন হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে বিস্ফোরণ, বাসে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আগুন লাগানোর ছবিটাও দিতে হবে দেশের বাইরে থাকা তাদের ‘বড় ভাইয়ের’ কাছে। প্রতিটি নাশকতার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডিএমপির ডিবিপ্রধান।