সংবিধান অনুযায়ি আগামী নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবার কথা। কিন্তু মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ও তার শরীক জোটের নেতারা তা মানতে নারাজ। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রধান দাবী জানাচ্ছেন। বিদেশিদের কাছেও বিষয়টি বিএনপি বার বার তুলে ধরছেন। কিন্তু গতকাল বিএনপি জোটের ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচীতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা তত্ত্বাবধায়কের দাবি না মানলে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘দেশের মানুষ শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন চায় না। তারা বিশ্বাস করে, শেখ হাসিনার অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশের মানুষ ছাড়া বন্ধুরাষ্ট্রগুলোও চায়, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। সে জন্য বিদেশি কূটনীতিকরা বাংলাদেশে আসছেন, সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা যদি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মানে, তাহলে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে নির্বাচন হতে পারে– এমন সম্ভাবনাও রয়েছে।’
এ বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাদের কাজ নয় এটা । জাতিসংঘ যা করে নির্বাচন নিয়ে কোন দেশে সংঘাতময় কিছু ঘটতে থাকলে কিংবা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিলে সেখানে দু বা তিন পক্ষের মধ্যে একটা সমাঝোতা প্রতিষ্টায় কাজ করতে পারে।
আবার কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি শেষ পর্যন্ত এ দাবীটাও করতে পারে। সরকার যেহেতু ক্ষমতা ছাড়তে চাইছে না সে ক্ষেত্রে তখন তারা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন আয়োজন করা যায় না কি না বা কি ভাবে করতে তার একটা ধারনা ও দিতে পারে। তখন বিএনপি নেতারা বিয়টি সামনে নিয়ে আসবে।
আবার কারো কারো মতে, বিএনপি ড.ফরিদুজ্জামনকে দিয়ে মাঠে প্রচার করে জনমত যাচাইও কবতে পারে। কে কি বলে তা বোঝার জন্য হতে পারে।
এদিকে শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি ঢাকা দক্ষিন মহানগরের আয়োজনে পদযাত্রা কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ‘প্রধানমন্ত্রী বিদেশিদের বলেছেন, উনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে! তার এ বক্তব্যে মানুষ হাসে। আমাদের পরিষ্কার কথা এ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ আর তেমন নির্বাচনে যাবে না, যে নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারবে না।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ চট্রগ্রামের সভায় বলেছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারি দলের নয়। বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হচ্ছে একটি অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য অবাধ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা।
তিনি বলেন, কেউ যদি নির্বাচন বর্জন করে কিংবা প্রতিহতের অপচেষ্টা চালায় তাহলে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক না করা কিংবা অগ্রহণযোগ্য করার দায়-দায়িত্ব তাদেরও।
তিনি বলেন, আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দিনের সরকার নির্বাচিত হোক। বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত‚তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে যে বৈঠক হয়েছে সেখানে নানা বিষয়ের মধ্যে একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। আমরা সেই কথাটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রদ‚তদের জানিয়েছি এবং অন্যদেরও সেই কথাটি বলা হচ্ছে। আমরাও চাই দেশে আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ সমস্ত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় পাটি জেপির মহাসচিব শেখ শহীদ দেশ বর্তমানকে বলেছেন, জাতিসংঘের কাজ নয় কোন দেশের নির্বাচন অনুষ্টানের দায়িত্ব নেয়া। বিষয়টি তাদের নয়। জাতিসংঘ সেজন্য গঠিত হয়নি। তারা যদি কোন দেশে নির্বাচন নিয়ে কোন পক্ষের সাথে সমঝোতা করার প্রয়োজন পড়ে সেই দেশের সব পক্ষের অনুরোধে তারা হয়ত মধ্যস্থকারীর ভূমিকা নিতে পারে।
তিনি আরো বলেন, বক্তব্য টি অবান্তর। অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে শেখ শহীদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের এক জায়গায় বসতে হবে। কেউ নির্বাচন বানচাল করলে নির্বাচন বা বয়কট করলে নির্বাচন বাতিল হয়ে যায় না।