বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে তিনজনকে আটক

বিএনপির ডাকা পঞ্চম দফার অবরোধের প্রথম দিন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা অবরোধের সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হলেন- জাতীয়তাবাদী জনতা দলের রায়হানুল হক রাজু। বুধবার (১৫ নভেম্বর) তাদের আটক করা হয়। এদিন ঢাকাজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন মিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “অবরোধের সমর্থনে বিএনপির কিছু সমর্থক পার্টি অফিসের সামনে এসে বিক্ষোভ করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা নাশকতার উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে।” এদিকে শাহবাগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেক শীর্ষ নেতা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পঞ্চম দফার অবরোধে ঢাকার গুলিস্তান, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেটসহ বেশ কিছু এলাকায় যানজট দেখা গেছে। যান চলাচল প্রায় স্বাভাবিক ছিল। তবে গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলো। এছাড়া যুগপতের বাইরে জামায়াতে ইসলামীও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। পঞ্চম দফায় ১৫ ও ১৬ নভেম্বর অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম দফায়, ৫ ও ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায়, ৮ ও ৯ নভেম্বর তৃতীয় দফায় এবং ১২ ও ১৩ নভেম্বর চতুর্থ দফায় অবরোধের ডাক দেয় দলটি। এছাড়া গত ২৯ অক্টোবর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালন করে তারা। বিএনপির এসব কর্মসূচিকে ঘিরে গত ২৮ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ১৭ দিনে সারাদেশে ১৫৪টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ১৩৭টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, পুলিশ বক্স, বাস কাউন্টারেও আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় দুইজন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মারধরের শিকার হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের একটি পানিবাহী গাড়িও পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।