বিএনপি এখন বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানে আমাদের দেশে একটা পোলারাইজেশন হচ্ছে এবং একটা ডিভাইসিভ অ্যাটিটিউট গড়ে উঠছে। এখানে পরস্পরবিরোধী মতের প্রদর্শন হচ্ছে। আমরা আশা করবো, দেশে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবো। তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে একটি মহল এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। ‘তারা নিজেরা ব্যর্থ হয়ে এখন বিদেশি শক্তিকে কাজে লাগাতে চায়। বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার তারা করছে।’
সোমবার (১৯ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমেরিকা, ইউরোপে তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে। সর্বশেষ যে খবর পেয়েছি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের অপপ্রচারের সঙ্গে তাদের অপপ্রচার একাকার হয়ে গেছে। বাংলাদেশের যে বিষয়টি বাইরে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে দেখা হয়, সেটা বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী। আমাদের সেনাবাহিনী দেশে দেশে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত, তাদের সেই মিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তারা অবশেষে অপপ্রচার চালাচ্ছে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালকে কাজে লাগাচ্ছে।
কাদের বলেন, যে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার কথা, যে নির্বাচন আমাদের এই প্রথম একটা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে… এর আগে নির্বাচন কমিশন ছিল প্রধানমন্ত্রী অফিসের অধীনে। এবারই প্রথম একটি নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচিত করেছে, এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও কর্তৃত্বপূর্ণ, আরও স্বাধীন করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এই অবস্থায় শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের জন্য সরকারিভাবে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়াটা অতীতে কখনও ছিল না।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে বিএনপির এই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয় আছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা (বিএনপি) বোঝে শেখ হাসিনার যে জনপ্রিয়তা, এই অবস্থায় নির্বাচন হলে তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না। কাজেই এই নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার, এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করাই এখন তাদের কাজ। এই কাজ করতে গিয়ে তারা বিদেশিদের কাছে নালিশ করছে।’
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি যাতে আর অগ্নিসন্ত্রাসের মতো কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সেজন্য শান্তির কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকার কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আমাদের লড়াই করতে হবে অশান্তির বিরুদ্ধে শান্তির জন্য। নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে, কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে। তাদের সংঘাত, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে আমরা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবো। আমরা অশান্তির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবো। আমরা সংঘাতের বিরুদ্ধে শান্তি চাই।
নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আসুন, বিএনপি আপনাদের কাছে যেটা নিয়ে নালিশ করে সেই নির্বাচনটা বাংলাদেশে কীভাবে হচ্ছে, কয়েকটা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো কীভাবে হয়েছে; এটা বিভিন্ন দেশের দূতাবাস আছে, তাদের লোকজন আছে, তারা এটা প্রত্যক্ষ করেছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে আমাদের নেত্রী গ্যারান্টি দিয়েছেন, বিদেশে গিয়েও বলেছেন বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। এটার নিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রী নিজে দিয়েছেন। আমরা সে কথাও আবারও বলছি, আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন বিএনপির ব্যাপারটা হচ্ছে—নির্বাচনে হেরে আমাদের প্রমাণ করতে হবে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। বিএনপি না জিতলে এই নির্বাচন কখনও অবাধ হবে না, কোনোদিন অ্যাকসেপ্টেবল (গ্রহণযোগ্য) হবে না, বিশ্বাসযোগ্য হবে না।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে ‘প্যাথলজিক্যাল লায়ার’ আখ্যা দিয়ে কাদের বলেন, ‘এত মিথ্যা কথা বলতে পারে, ‘কুত্তা নির্বাচন’ বলে তারা। কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা যদি ন্যূনতম গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাহলে ‘কুত্তা নির্বাচন’ কোনও রাজনৈতিক দলের নেতার মুখে আসে! শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে? এই কথাটা আমি উইথড্র করতে বলেছি। এই ধরনের কথা তাদের মুখে আসে!’
দলের আগামী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপনের কথা জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাদামাটা অনুষ্ঠান হবে এবং মাসব্যাপী অনুষ্ঠান হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক প্রমুখ।