আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি সরকারের পতন তো দূরে থাক, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছে।
শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে অনুষ্ঠেয় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনী সুধী সমাবেশের আয়োজনস্থল ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন।
কাদের বলেন, দেশে আন্দোলনের বস্তুগত পরিস্থিতি বিরাজমান নেই। আন্দোলন করতে যে সাবজেক্টিভ প্রিপারেশন, তা-ও নেই। বিএনপি শুরুতে যে জোট, সমমনাদের সম্মিলন ঘটিয়েছিল, তা এখন আর নেই। এখন দলে দলে নানা বিভক্তি। বিএনপি সরকারের পতন তো দূরে থাক, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করছি না যে এমন কোন আঘাত আসবে, যা সামলানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা প্রস্তুত, আমাদের প্রস্তুতি একদিন দুদিনের নয়। আমরা বলেছি আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আমরা প্রস্তুত।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কাওলা থেকে ফার্মগেট-তেজগাঁও রেলস্টেশন পর্যন্ত ১০-১১ মিনিটে কাভার করবে। এখানে অনেক যাত্রী আসা যাওয়া করবেন। এর সুফল অবশ্যই পাবে রাজধানীবাসি। এর সঙ্গে যখন মতিঝিল পর্যন্ত উদ্বোধন হয়ে যাবে, তখন সুফল অনেক বেড়ে যাবে এবং ঢাকা আরও আধুনিক শহরে রূপ নেবে। যান চলাচল আরো একটু ইজি (সহজ) হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের ৬৫ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। এখন যে অংশ উদ্বোধন হচ্ছে না, সেখানেও অনেক কাজ হয়ে গেছে। আমরা আশা করছি আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোটা চালু করতে পারবো। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এয়ারপোর্ট থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট থেকে মগবাজার, মগবাজার থেকে কুতুবখালি পর্যন্ত গন্তব্য। পুরো অংশের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। র্যাম্পসহ মোট ৪৬ কিলোমিটার।’
তিনি বলেন, ‘এখন দেশের মানুষ পদ্মাসেতুর সুফল যেমন পাচ্ছে, উত্তরা থেকে আগারগাও পর্যন্ত মেট্ররেলেরও যথেষ্ট সুফল পেতে শুরু করেছে। মেট্রোরেলের মতিঝিল পর্যন্ত প্রথম ট্রায়াল আমি উদ্বোধন করেছি। মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেট্রোরেল এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এই অংশ উদ্বোধন করার পর এর সুফল নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। অল্প একটু পথ উত্তরা থেকে আগারগাঁ পর্যন্ত দুঘন্টার রাস্তা কিন্তু এখন মেট্রোরেলে ১০ মিনিট লাগে। এর সুফল মানুষ এখন পেতে শুরু করেছে। আর মতিঝিল পর্যন্ত যখন মেট্রো যাবে, এই সুফলটা আরও বেশি পাওয়া যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের টার্গেট ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টা মেট্রো চালু করা। আজকে ঢাকা শহরে যে যানজট পরিস্থিতি, সবকিছুর সমাধান বা সুফল এই মুহূর্তে পাওয়া যাবে না। তবে কিছুটা তো পাওয়া যাবে।’
এমএইচএফ