বাকি আজকের দিনটা। গতরাত পর্যন্ত নির্ধারণ হয়নি বিএনপির সমাবেশ কোথায় হবে। যদিও দলটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার। বিকল্প স্থানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি)। পুলিশ বলেছে, জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সড়কে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। খোলা স্থানের প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় নিয়ম মেনে সমাবেশ করার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।
গত ১৮ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দেন, ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েল সামনে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরে ডিএমপিকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়। চিঠি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমে বলেন, আমরা মহাসমাবেশ করব সেটা পুলিশকে অবহিত করেছি, তাদের অনুমতি চাইনি। ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেতারা বলে আসছেন, মহাসমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম হবে। অন্যদিকে, ওই দিনই কাছাকাছি জায়গা বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। তারাও স্মরণকালের বৃহৎ জনসমাগমের আওয়াজ দিচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই দলকে চিঠি দিয়ে সমাবেশে লোকসমাগমের সংখ্যা, সময়, বিস্তৃতি, কোন কোন স্থানে মাইক লাগানো হবে, অন্য দলের কেউ উপস্থিত থাকবেন কি না-সহ সাতটি তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
গতকাল বুধবার ডিএমপির চিঠির জবাব দিয়েছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল করিব রিজভী স্বাক্ষরিত জবাবে বলা হয়েছে- তাদের সমাবেশ ওই দিন বেলা দুইটায় শুরু হবে এবং মাগরিবের আজানের আগে শেষ হবে। সমাবেশে এক থেকে সোয়া লাখ লোক হতে পারে। সমাবেশের বিস্তৃতি প্রসঙ্গে বিএনপি বলেছে, সমাবেশটি পশ্চিমে বিজয়নগর মোড় ও পূর্বে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। বিজয়নগর মোড় ও ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত কিছুদূর অন্তর অন্তর মাইক লাগানো হবে। শনিবারের সমাবেশে বিএনপির নেতারা ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন না। সমাবেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দলের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানায় বিএনপি। এসব স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা হবে ৫০০।
বিএনপির চিঠিতে বলা হয়, ‘২৮ অক্টোবরের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নয়াপল্টনের বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনেই আয়োজনের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অন্য কোনো ভেন্যুতে যাওয়া সম্ভব হবে না।’
এ প্রসঙ্গে ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার (প্রশাসন) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, যারা সভা-সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছে তাদের বলা হয়েছে জনদুর্ভোগ কমাতে রাস্তা বাদ দিয়ে খোলা স্থান দেখতে। সেটা কোনো খোলা মাঠ হতে পারে। সেরকম স্থান নিজেরাই পছন্দ করে ডিএমপিকে জানাতে বলা হয়েছে। বিকল্প স্থান ঠিক করে আবেদন করলে কমিশনার চিন্তা করে দেখবেন সে স্থানে তারা অনুমতি পাবে কি না। তিনি বলেন, আমাদের ঢাকা শহর মেগাসিটি। এখানে যদি লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয় তাহলে নগরবাসীর চলাফেরার ব্যাঘাত ঘটবে। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে সমস্যা হবে। সব দিকগুলো বিবেচনা করেই নগরবাসীর স্বার্থে নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য এই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ডিএমপি কমিশনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
‘বিএনপি পল্টনেই সমাবেশ করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে ডিএমপি কি করবে’- এ প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক নেতারা কর্মীদের চাঙ্গা রাখার উদ্দেশ্যে অনেক সময় অনেক কিছুই বলেন। আমরা সেটিকে বিচার বিবেচনায় নিচ্ছি না। আমরা আইনে কি আছে সেটা বিবেচনা করব। ডিএমপির যে অডিনেন্স আছে সেখানে বলা আছে, ঢাকা শহরে কোনো সভা-সমাবেশ করতে হলে অবশ্যই কমিশনারের অনুমতি নিতে হবে। কেউ যদি অনুমতি না নেয় সেটি আইন অমান্য হবে। তবে আমি আশা করব রাজনৈতিক দলগুলো আইনের প্রতি বাধ্য থেকে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। আমরাও সবাইকে সহযোগিতা করতে চাই।