বিএনপির প্রার্থী থাকলে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতমূলক হতো

দেশ বর্তমানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নোমান আল মাহমুদ

নোমান আল মাহমুদ।  চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী।  ২৬ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে  ডিঙিয়ে নৌকার টিকিট পেয়েছেন তৃণমূলের এই আওয়ামী লীগ নেতা।  গত ১৯ দিন ধরে ভোটের মাঠে প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি।  বৃহস্পতিবার এই উপনির্বাচনের ভোট।  নির্বাচন নিয়ে গত সোমবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে নোমান আল মাহমুদ নগরীর পূর্ব ষোলশহরে তাঁর বাসভবনে দেশ বর্তমানকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সালাহ উদ্দিন সায়েম।

প্রশ্ন: এটা তো আপনার প্রথম নির্বাচন। নির্বাচন পরিচালনায় কোনো বেগ পেতে হচ্ছে?

উত্তর: আমি আগে নির্বাচন করিনি বটে কিন্তু নির্বাচনী কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলাম। এই আসনের দুই প্রয়াত সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল ও মোছলেম উদ্দিন আহমদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আমি সদস্য সচিব ছিলাম। আমাদের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটিরও সদস্য সচিব ছিলাম। এসব নির্বাচন পরিচালনায় আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই উপনির্বাচনে আমাকে বেগ পেতে হচ্ছে না কারণ আমার দল আছে। নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিকভাবে নির্বাচনী কর্মকান্ডে তৎপর রয়েছেন।

প্রশ্ন: একদিন পরই ভোট, ভোট কেমন হবে বলে মনে করছেন?

উত্তর: ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে তো ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  আশা করছি, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট হবে।

প্রশ্ন: এই আসনে গত উপনির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম ছিল। এবার ভোটার উপস্থিতি কেমন হবে বলে মনে করছেন?

উত্তর: এবার ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা ক্যাম্পেইন করে আসছেন। আশা করছি, গত উপনির্বাচনের তুলনায় এবার কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন।

প্রশ্ন: নির্বাচনে তো আপনার কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি নেই?

উত্তর: প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামিক ফ্রন্টের দুজন প্রার্থী আছে।  তারা ভোটের মাঠে প্রচারণা চালিয়েছেন।

প্রশ্ন: কিন্তু বিএনপির প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন কি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে?

উত্তর: নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি থাকাটা ভালো।  এতে কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা জাগে আর ভোটারদের উপস্থিতি বেশি হয়।  স্বাভাবিকভাবে বিএনপির প্রার্থী থাকলে নির্বাচনটা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতো।

প্রশ্ন: শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় জয়ের ব্যাপারে নিশ্চয় শতভাগ আশাবাদী?

উত্তর: আমার তো দলীয় ভিত্তি আছে। আমাদের ৪৪ শতাংশ দলীয় কর্মী আছে।  স্বাভাবিকভাবে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

প্রশ্ন: গণসংযোগে আপনাকে নিয়ে ভোটারদের কী প্রতিক্রিয়া দেখলেন?

উত্তর: আমি এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছি।  আমি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।  সাদামাটা জীবন-যাপন করি।  আমার কোনো দুর্নাম নেই।  তাই মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছে।  তারা মনে করছে, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবো, এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবো।

প্রশ্ন: গণসংযোগে ভোটাররা আপনার কাছে কী দাবি-দাওয়া জানিয়েছে?

উত্তর: মানুষের তো চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই।  তবে ভোটাররা বিশেষভাবে নতুন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নের ব্যাপারে জোরালো দাবি জানিয়েছেন।  আমি নির্বাচিত হলে নতুন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবো।

প্রশ্ন: এই আসনের দুই প্রয়াত সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল ও মোছলেম উদ্দিন আহমদ নতুন কালুরঘাট সেতুর ব্যাপারে মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।  কিন্তু তারা সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি।  আপনি নির্বাচিত হলে নতুন কালুরঘাট সেতুর ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেবেন?

উত্তর: আসলে এই সেতু করতে গেলে অনেক প্রক্রিয়া আছে। নদীর নাব্যতা যাচাই-বাছাই করতে হবে।  পাশে মাছের প্রজনন কেন্দ্র হালদী নদীকে রক্ষা করতে হবে। আরেকটা বিষয় হলো, কালুরঘাট নতুন সেতুটা না হলে ওপারে কক্সবাজার পর্যন্ত যে রেললাইন হয়েছে সেটি অকার্যকর হয়ে যাবে।  তাই এই সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন করতে আমি সংসদে কথা বলবো।

প্রশ্ন: এই সংসদের মেয়াদ আছে আর প্রায় এক বছর।  আপনি নির্বাচিত হলে এই সময়ের মধ্যে নতুন কালুরঘাট সেতুর কাজ শুরু করা যাবে বলে মনে করছেন?

উত্তর: আমি শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাবো।  সংসদে সোচ্চার থাকবো।  প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলবো।

প্রশ্ন: আপনি কি আগামী জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে আবারও মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন?

উত্তর: আমি প্রত্যাশা করবো। তবে মনোনয়ন দেওয়া-না দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপার।

প্রশ্ন: এই উপনির্বাচনে আপনার মনোনয়ন পাওয়ার পেছনে কারো কি সুপারিশ ছিল?

উত্তর: নো, কারো সুপারিশের প্রশ্নই আসে না।  নেত্রী কারো সুপারিশ শোনেন না।  তিনি আমার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে মনোনয়ন দিয়েছেন।  আমি কারো কাছে কোনো তদবির করিনি।  মনোনয়ন ফরম কিনে একবারে চুপচাপ ছিলাম।

প্রশ্ন: কিন্তু আপনার তো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না।  দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন একেবারে শেষ দিকে।  তখন আপনাকে কি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে কেউ কি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন?

উত্তর: আমি ধারণা করেছিলাম, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন মনোনয়ন পাবেন।  তাই আমার প্রার্থী হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। শেষ দিকে হঠাৎ নাছির এসে আমাকে বললো, ‘নোমান ভাই আমি ফরম নেবো না, আপনি ফরম সংগ্রহ করেন।’  আমি তাঁকে বললাম, ‘আমি ফরম কেন নেবো? আমি তো মনোনয়ন পাবো না।’ তখন নাছির আমাকে বললো, ‘আপনি নেন, আপনি আমার নেতা, আপনি আমার আগে থেকে পলিটিক্স করছেন।’ এসব কথা বলে সে হাসছিলো, কিছু বলেনি।  এরপর আমি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করি।

প্রশ্ন: মনোনয়ন পাওয়ার পর আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?

উত্তর: সেদিন আমি নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে নগর আওয়ামী লীগের ২৫ মার্চের আলোচনা সভায় ছিলাম।  তখন দুপুর ১২টা ১০ মিনিট। হঠাৎ করে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে আমার মোবাইল কল আসছিলো বারবার।  পরে দেখলাম, ওই নাম্বার থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ আসলো।  তাতে লেখা ছিল, আমি বিপ্লব বড়ুয়া (প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী) নাম্বার। আপনি দ্রুত ধানমন্ডি দলীয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।  আপনাকে অভিনন্দন।  তখন আমি মনে করলাম, মনে হয় আমি মনোনয়ন পেয়ে গেছি।  আমার পাশে বসা আ জ ম নাছিরকে মেসেজটা দেখালাম।  সে সাথে সাথে বিপ্লব বড়ুয়াকে ফোন দিলো।  তখন বিপ্লব বড়য়া নিশ্চিত করলো, আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।  এ খবর শুনে  পুরো হলে নেতাকর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।  তখন আমি হতবিহ্ববল হয়ে পড়ি।  এটা আমার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা।

দেশ বর্তমান: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

নোমান আল মাহমুদ: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।