মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন ,গত চার দিনের অবরোধে বিএনপির আটজন নেতা-কর্মী নিহত এবং তিন হাজার ৩৫০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন
তিনি বলেন, ‘এপর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ, ২৯ অক্টোবর বিএনপির শান্তিপূর্ণ হরতাল এবং ৩১ অক্টোবর বিএনপির শান্তিপূর্ণ অবরোধকে কেন্দ্র করে মোট ২২৮০ জনের অধিক নেতা-কর্মী গ্রেফতার, ৪৬টির অধিক মামলা, তিন হাজার ৩৫০ জন আহত এবং নিহত হয়েছেন ৮ জন (সাংবাদিক ১ জন) নেতা-কর্মী।
এছাড়াও এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে গত ৬ দিনে চার হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলা করা হয়েছে ৭১ টি।
গত ২৮ ও ২৯ জুলাই হতে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে মোট ৫,৫৬০ জনের অধীক নেতা-কর্মী আহত, মোট মামলা হয়েছে ৪৬৪টি, মোট গ্রেফতার ৬,৬৯০ জন, মোট আসামি ৩৪,৮৭০ জন। এছাড়া ১৭টি মামমলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ১১১ জনের অধিক নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান রিজভী
তিনি যোগ করেন, ‘গায়ের জোরে চলছে আওয়ামী দুঃশাসন। তাদের অনাচারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ। এমনই একটি পরিস্থিতি তৈরি করছেনে শেখ হাসিনা। বিরোধী দলের সমালোচনায় ভাষা প্রয়োগ করা মানেই ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে তাই বন্দুকের নল তাক করা থাকে। অংশগ্রহণকারীদের ভাগ্যে থাকে আটক বা কারাবরণের জুলুম।’
তিনি বলেন, ‘২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আক্রমণ নাৎসি জার্মানির গেস্টটাপোরাই চমকে উঠবে। বিস্তৃত পরিসর জুড়ে দেশবাসী মানুষের মিছিল প্রত্যক্ষ করেছে এক মহাসমুদ্র। এই দৃশ্য সহ্য করতে পারেনি সরকারের পেটোয়া বাহিনী। সমাবেশের মানুষদের লক্ষ্য করে খই ফোটানোর মতো বন্দুকের গুলি ছুঁড়তে থাকে। নিহত, আহত আর গ্রেফতারের নির্বিচারে জুলুমের নারকীয় দৃশ্যের সূচনা হয়। রক্তরঞ্জিত করা হয় সমগ্র সমাবেশকে।’
যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘সরকার পতনের এক দফা দাবি মহাসমাবেশে হামলা ও দলের মহাসচিবকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের আজ প্রথম দিন। শান্তিপূর্ণ এই অবরোধ কর্মসূচিতে উন্মত্ত হায়েনার মতো হামলা চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশকর্তৃক কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ছাত্রদল নেতা রেফায়েত উল্লাহ ও কৃষকদল নেতা বিল্লাল মিয়া এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার যুবদল নেতা দিলু আহমেদ জিলুকে গাড়ী চাপা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।’
রিজভী আরো বলেন, ‘জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন শেখ হাসিনা। সুষ্ঠু নির্বাচন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, স্বচ্ছ ভোট, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি শব্দগুলোতেই আঁতকে উঠে বিরোধীদলকে বিনাশ করতে অস্ত্র নিয়ে নেমেছে সরকারের বাহিনী। ২৮ অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত সকল হত্যাকাণ্ড সরকারের মাস্টার প্ল্যানের অংশ।’