বিএনপির ইউনিয়ন পদযাত্রাকে ঘিরে সারাদেশে ধরপাকড়

১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ইউনিয়ন পদযাত্রাকে ঘিরে দেশব্যাপী নতুন করে ধরপাকড় শুরু হয়েছে।  পুলিশের ধরপাকড়ের কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা আতঙ্কে ভুগছেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ইউনিয়ন পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণার পর শুক্রবার (১০ ফেব্রূয়ারি) পর্যন্ত সারাদেশে দলটির দেড়শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৪ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণার পরই নতুন করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।  তিনি বলেন, ‘সরকার এতটাই ভীত হয়েছে যে, পদযাত্রার মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকেও তারা সহ্য করতে পারছে না। আসলে জনবিচ্ছিন্ন সরকার জনআতঙ্কে ভুগছে।’

প্রিন্স বলেন, ‘শুক্রবার রাতে গেন্ডারিয়া থানার বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম কাসু, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি কোরবান খন্দকার, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ জালাল উদ্দিন, ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বেলায়েত মাস্টার, ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আজিজ উল্লাহসহ সারাদেশে দেড়শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’

পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ফেনীর সব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা মহড়া দিচ্ছে বলে দাবি করে প্রিন্স বলেন, ‘ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নূরুল আলমের বাড়িতে গিয়ে তারা হামলা করে।’

সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, দুর্নীতি, লুটপাটের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জেগে উঠেছে বলে দাবি করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকার সৃষ্ট জনদুর্ভোগে মানুষ দিশেহারা।  সরকার দেশ-বিদেশে বলছে, বিরোধী দলের কর্মসূচি পালনে কোনো বাধা নেই।  অথচ প্রতিটি কর্মসূচির প্রাক্কালে গ্রেপ্তার, মামলা, হামলা ও পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে বিরোধী দলের প্রতিটি কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করছে।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫৪২টি মামলা হয়েছে।  এরমধ্যে আসামি করা হয়েছে ১৯ হাজার ১১৩ জনকে।  আর অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৭৮ হাজার।  গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২ হাজার ৫৫৫ জন নেতাকর্মীকে।