ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ সমীক্ষা বলছে, চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। শুধু বয়স্করা নন, এখন কম বয়সীদের মধ্যেও ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস এই বিপদ ডেকে আনতে পারে। যেমন- বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা। প্যাকেটজাত চিপস্, বিভিন্ন ধরনের কুকিজে লবণের পরিমাণ বেশি। এই বাড়তি লবণ স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। শরীরে ভিটামিন সি’র পরিমাণ শরীরে কমে গেলেও ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে হ্যামোরেজিক স্ট্রোক ডেকে আনে এই ভিটামিনের ঘাটতি। তাছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ খেলে ব্রেন স্ট্রোক তো বটেই, সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকেরও আশঙ্কা থাকে। তাই যখন তখন পেইনকিলার জাতীয় ওষুধ খাবেন না।
ব্রেন স্ট্রোক আসলে কী!
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো বিভিন্ন ক্রনিক সমস্যা মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর পথ আটকে দেয়। এদিকে রক্তের মধ্যে ভেসে বেড়ানো চর্বি আচমকা ধমনীতে আটকে গিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেনের অভাবে নিস্তেজ হতে হতে অকেজো হয়ে যায়। তাকেই বলা হয় স্ট্রোক।
সাধারণত দুই ধরনের স্ট্রোক হয়। ইসকিমিক আর হেমারেজিক। ইসকিমিক স্ট্রোকে রক্ত চলাচল থেমে যায়, আর হেমারেজিক স্ট্রোকে দুর্বল রক্তনালী ছিঁড়ে গিয়ে রক্তপাত হয়। এছাড়া আছে ‘ট্র্যান্সিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক’ বা টিআইএ। অল্প পরিমাণ রক্ত মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীতে সাময়িকভাবে আটকে গেলে কিছুক্ষণের জন্য রোগীর অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আপাতদৃষ্টিতে মারাত্মক না হলেও টিআইএ’র পরে বড় অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে।
লক্ষণগুলো
আচমকা শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা। নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকা। হঠাৎ এক চোখে বা দুই চোখেই দৃষ্টি হারিয়ে ফেলা। মুখের একদিক বেঁকে যাওয়া। কথা বলতে গিয়ে কথা জড়িয়ে যাওয়া। বাহুতে ব্যথা হওয়া।
পরিমিত খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন স্ট্রোক প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। ডায়াবেটিস অথবা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।