চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার চন্দ্রনগর এলাকার গ্রীনভিউ আবাসিক সংলগ্ন পাহাড়ের ৫দিনে ৫টি স্পটে ১০ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়ায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর। অভিযুক্তরা বিষয়টি নিয়ে অবগত নয় বলে দাবি করলেও তদন্ত চলছে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মামলার বাদি ও চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মনির হোসেন দৈনিক দেশ বর্তমানকে জানান, সরেজমিনে একাধিকবার পরিদর্শন করে ৫দিনে ৫টি স্পটে ১০ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পাহাড় কাটার প্রমাণ পেয়েছি। প্রমাণ সাপেক্ষে ভূমি অফিসের সহায়তায় ১৮ জনকে চিহ্নিত করে মামলা করেছি। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, গেল ২৯ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাসের অনুমতি নিয়ে পরিদর্শক মো. মনির হোসেন বাদি হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা রেকর্ডের জন্য আবেদন করলে পরেরদিন ৩০ জানুয়ারি বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলাটি রের্কড হয়। মামলাটির তদন্ত করছেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের কেমিস্ট জান্নাতুল ফেরদৌস। মামলায় আসামিরা হলেন- মনির হোসেন (৩০), জান্নাতুন নিসা ঝুম্পা (২৯), ইমতিয়াজুর রহমান (৩৮), শামসুদ্দিন বাদল (৫০), শামসুন নাহার (৫২), মহিন উদ্দিন (৪১), বদরুল আলম রাশেদ (৩৮), বাহার উদ্দিন(৫০), আফরোজা বেগম (৪৭), রিনা আক্তার (৩৬), রতন মিয়া (৩৫), খালেদ (৩৮), ইলিয়াছ (৫৪), জহির উদ্দিন (৫০), লোকমান (২৯), মানিক (৩০), সোহেল (২৮) ও শামীম (২৫)। তারা উভয়ের যোগসাজশে গত ৪ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে অবৈধভাবে ১০ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পাহাড় কাটে। যেখানে সাক্ষী হিসাবে আছেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক হাছান আহাম্মদ, কাট্টলি সার্কেল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আবু ইউছুপ, অধিদপ্তরের গাড়ি চালক মো. রিয়াদ হোসেন ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিউটি বেগম।
মামলার তদন্তকর্মকর্তা ও কেমিস্ট জান্নাতুল ফেরদৌস দেশ বর্তমানকে বলেন, মামলাটির তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত শেষ হলে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মনির হোসেন, বাহার উদ্দিন ও শামসুদ্দিন বাদলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তারা কেউ পাহাড় কাটার কথা স্বীকার করেননি। তাদের মধ্যে কেউই মামলার বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। এছাড়া কেউ কেউ মামলায় থাকা তার নাম অন্য জনের বলেও দাবি করেন।
তবে, মামলা যেহেতু হয়েছে সেহেতু আইনিভাবে মোকাবেলা করবেন বলে জানান একজন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার্স ইনচার্জ সঞ্জয় কুমার সিনহা বিষয়টি নিয়ে দেশ বর্তমানকে বলেন, মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। বাদি ও তদন্ত দুটোই পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ যদি রিকুজেশন দিয়ে আমাদের সাপোর্ট চায় তাহলে আমারা সহযোগিতা করব।
বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান রুশাই দেশ বর্তমানকে বলেন, পাহাড় শুমারি না হওয়া এবং প্রশাসনিক দৈন্যতার কারণে মানুষ নির্ধিদ্বায় পাহাড় কাটছে। জেলা প্রশাসন ও সিডিএ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া স্বত্বেও পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। চন্দ্রনগরে পাহাড় কাটার দায়ে মামলা করায় আমি পরিবেশ অধিদপ্তরকে স্বাগত জানাই, কিন্তু দুঃখের বিষয় পরিবেশ অধিদপ্তর বাদি হয়ে পাহাড় কাটা নিয়ে যত মামলা হয়েছে কোনোটিই আলোরমুখ দেখেনি এবং প্রমাণ করে অপরাধীরকে শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি। এবার আশা করবো যথাযত তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনবে।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক পাহাড়-টিলা কর্তনের সাথে জড়িড় ব্যক্তি, কর্তনকৃত পাহাড়ের ভূমির মালিকানা এবং ভূমির প্রকৃতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য চেয়ে নগরীর কাট্টলি সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। যা ২২ জানুয়ারি প্রেরিত প্রতিবেদনটি গত ২৪ জানুয়ারি ভূমি অফিসে গৃহিত হয়। যার স্মারক নং ৩১.৪২.১৫০০.০০০.১৬,০০২,২৪-৪৩;। মূলত প্রতিবেদনের সার-সংক্ষেপ পর্যালোচনা করে আসামিদের সনাক্ত এবং জমির পরিমাণ নির্ণয় করা হয়।
আবেদনটির শেষে লেখা আছে প্রতিবেদনের উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫(সংশোধন, ২০১০) এর ধারা ৬(খ) লংঘন করেছেন যা একই আইনের ১৫(১) (সংশোধিত,২০১০) টেবিলের ক্রমিক নং-৫ অনুসারে দন্ডনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এছাড়া উপরোক্ত আসামীগনের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি পূর্বেও পাহাড় কাটার সাথে সম্পৃক্ত ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
দেশ বর্তমান/এআই