সাতকানিয়া কেরানীহাট বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ মামলায় গ্রেফতার হলেন, বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের আওতাধীন বায়তুশ শরফ হোটেলের মালিক।
আটকৃতরা হলেন- উপজেলার বারদোনা এলাকার হোছন নগরের শামশুল হকের ছেলে মো: আলী (৫৫) ও নাছির উদদীন(৪৯)।
১৮ই এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) গভীর রাতে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকার বায়তুশ শরফ হোটেল থেকে তাদের দুই সহোদরকে গ্রেফতার করেন সাতকানিয়া থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম।
জানা যায়, ২০০২ সালে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের পক্ষে জনৈক ওলামিয়া ফকির থেকে একটি দলিল সৃজন করেন নাছির উদদীন আর মো: আলী দুই ভাই, প্রকৃত পক্ষে জনৈক ওলামিয়া ফকির নামে কেউ বায়তুশ শরফের কোন কালে কোন পদে দায়িত্বে ছিলেন না, এবং বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের ইতিহাসে জনৈক ওলামিয়া ফকিরের অস্তিত্ব ও নেই, তবুও জালজালিয়াতির মাধ্যমে নাছির উদদীন এবং মো: আলীর যোগসাজশে অলৌকিক একটা চুক্তি সম্পাদন করেন যার বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।
ফলে কেরানী হাট বায়তুশ শরফের সবকিছু দেখভালের জন্য গত ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের ২১ তারিখে বায়তুশ শরফের পীর আল্লামা শায়খ মাওলানা আব্দুল হাই (ম.জি.আ) সভাপতি ও আলহাজ্ব মো: মূসাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩বছরের জন্য কেরানীহাট বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের ১৭ জনের পরিচালনা পর্ষদের কমিটি গঠন করা হয়।
পরে নতুন কমিটি কর্তৃক বোর্ড মিটিং এ নিয়মতান্ত্রিক ভাবে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের বায়তুশ শরফ হোটেলের মূল চুক্তিপত্র দেখাতে বল্লে তখনই ভেসে আসে দেশের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কেরানীহাট বায়তুশ শরফ হোটেলের জালিয়াতির মাধ্যমে করা জনৈক ওলামিয়া ফকিরের সাথে চুক্তির একটি ফটোকপি তবে সেটার অর্জিনাল দেখাতে নারাজ।
এক পর্যায়ে বর্তমান কমিটি সেটার তদারকি করলে বায়তুশ শরফ হোটেলটি নিজেরা আত্মসাৎ করার জন্য বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হলে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের সহ সভাপতি আহমদ সৈয়দ গত ৬-৬-২০২৩ তারিখে চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল আদালতে নাছির আর মো: আলীসহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে জালজালিয়াতি ও প্রতারণা এবং টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া দলিল সৃজনের অপরাধে একটি মামলা দায়ের করলে আদালত তাৎক্ষণিক মামলা আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন, পরে আদালত অন্তত ৮ মাস তদন্ত করে রিপোর্ট দাখিল করলে আদালত তা গ্রহণ করে ৮-৪-২০২৪ তারিখে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আওলাদ হোসেন মো: জুনায়েদ এর আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন।
এদিকে বাদীর আইনজীবী এডভোকেট সাঈদুল আলম বলেন,বায়তুশ শরফের ট্রাস্টি সম্পত্তি জালজালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছেন চক্রটি।
তদন্তের রিপোর্টে তা সুনির্দিষ্ট ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছেন।