বাজেট সময়োপযোগী ও সাহসী: খলিলুর রহমান

মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেট প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ মনে করছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির (সিএমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমান। জাতীয় সংসদে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের বাজেট পেশের পর এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকাল তিনটায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন। এর পর মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি দেশ বর্তমানকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি নানা সংকটের মাঝেও যথোপযুক্ত বাজেট পেশের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে, দীর্ঘদিন যাবত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকট, বিশ^ব্যাপী মূল্যস্ফীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে চলমান রাখতে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের জন্য ”উন্নয়নের দীর্ঘ অগ্রযাত্রা পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে শ্লোগানে দেশের উন্নয়নে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার সুচিন্তিত, জনকল্যাণমুখী ও সাহসী বাজেট। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বৈশি^ক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ ধরনের বাজেট প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সময়ে যথোপযুক্ত এবং সাহসী পদক্ষেপ বলে মনে করি।

শিল্পপতি খলিলুর রহমান বলেন, ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য হলেও প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্ব, সুশাসন, স্বচ্ছ জবাবদিহিতা এবং সদিচ্ছায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। দুর্নীতিমুক্ত এবং সু-শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এ বাজেট বাস্তবায়ন সহায়ক হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব আহরনের জন্য ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৭/২৪ কর্মঘন্টা এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা গেলে এ লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত কর প্রদানকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর করের বোঝা না বাড়িয়ে নতুন করদাতা সৃষ্টির উপর গুরুত্ব প্রদান সহ বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি শিল্পায়নের জন্য সহায়ক হবে। বিশ্ব  অর্থনীতিতে রফতানি বাণিজ্য মন্দা, তাই দেশের বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে রফতানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর সম্পুর্ণ বাদ দিয়ে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করেন পোশাক শিল্পে নেতৃস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের এই কর্ণধার।

খলিলুর রহমান বলেন, ইন্ডাষ্ট্রিয়াল বন্ডসমূহের আমদানী শুল্ক শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একত্রে আদায় না করে বন্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিশোধের সুযোগ রাখলে শিল্প সমূহ আর্থিক সংকটের সম্মুখীন না হলে যথাযথ আমদানীর সুযোগ থাকলে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে। অন্যথায় কাস্টম হাউজে একত্রে শুল্ক পরিশোধ করতে হলে আর্থিক সংকটের কারনে আমদানি হ্রাস পাবে। ফলে শুল্ক আহরণ ও পণ্য উৎপাদন কমে যাবে। যা দেশের জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে ব্যাহত করবে।

মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি বলেন, বিদেশী এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রদানে যে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হবে, তার জন্য সরকারের বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ঘাটতি মোকাবেলায় বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার দাবি জানান এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকী এবং প্রতি তিন মাস অন্তর কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য টার্গেট করে দিলে, সেই টার্গেট মতে কার্য সম্পাদনে ব্যর্থ হলে সেই দফতরের প্রয়োজনীয় জবাবদিহিতা থাকবে। না হলে ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ বাড়বে।