বাজেটে নারী-শিশুর জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ৪৬৪ কোটি টাকা

২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে যা ছিল ৪ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। সে হিসাবে আসন্ন অর্থবছরে নারী ও শিশুর জন্য বরাদ্দ বাড়ছে ৪৬৪ কোটি টাকা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি নারীর জন্য অনুকূল কর্মপরিবেশ সৃষ্টির অঙ্গীকার আছে নতুন অর্থবছরের বাজেট আয়োজনে।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে এ সব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মজীবী মায়েদের নিরাপদে কাজ সম্পাদনের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য ১২৫টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫ হাজার ৭৩০ জনকে দিবাকালীন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র মহিলাদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার সহজতর করা এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবার মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করা ও তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত নারীরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দৈনন্দিন বিবিধ সমস্যার সমাধান ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন, ই-কমার্স উদোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৯০ কোটি টাকা ছিল।

নারী ও শিশুর জন্য মধ্যমেয়াদি কর্ম পরিকল্পনা

নারী ও শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত সময়ে কর্মজীবী মায়েদের শিশু সন্তানদের জন্য ৬৪টি জেলায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা সৃষ্টিতে স্যানেটারি টাওয়াল প্রস্তুতকরণ ও বিতরণ, কিশোরীদের ক্ষমতায়নে স্কুলগামী ছাত্রীদের বাইসাইকেল প্রদান, নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শেখ হাসিনা নারী কল্যাণ ডরমেটরি ও কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল নির্মাণ, অবসরকালীন আপনালয় স্থাপন, ৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য শিশু বিকাশকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা, গ্রামীণ এলাকার কওমি মাদ্রাসার শিশুদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, নিরাপদ ইন্টারনেট- নিরাপদ শিশু কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ৬৪ জেলায় কর্মজীবী হোস্টেল ও জিম সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, বর্তমানে সাড়ে ১৪ হাজার উদ্যোক্তা ই-কমার্স প্ল্যাটফরম ‘লালসবুজ ডটকম’ এ নিবন্ধন ও পণ্য আপলোড করে পণ্য বিক্রি করছেন। দেশের নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও সেবা বিপণনের জন্য জয়িতা ফাউন্ডেশনের আওতায় ঢাকাসহ সব বিভাগীয় সদরে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নারীবান্ধব বিপণন অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। জয়িতা ফাউন্ডেশনকে আরও আধুনিক করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীর সক্ষমতা

পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় নারীদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ‘জেন্ডার রেসপনসিভ ক্লাইমেট অ্যাডাপশন (জিসিএ) শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি নারীদের ‘চেঞ্জ এজেন্ট’ হিসেবে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, সহনশীল জীবিকায়ন ও পানীয় জলের সমস্যা সমাধান বাস্তবায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে জানানো হয়।

হাওড়ের নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩৫০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার হাওড় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও দুস্থ নারীদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৭ হাজার জনকে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার ৬৫০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ কার্যক্রম সামনের দিনগুলোতে অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।