বাংলাদেশ থেকে বছরে ৭০০ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে

বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, এ বিষয়ে কারও কোনো কথা নেই। খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ঋণ খেলাপিদের আরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটা জাতির পিতার সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ নীতির পরিপন্থি।

মঙ্গলবার (০৯ মে) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ”দেশ রূপান্তরের কারিগর শেখ হাসিনা” বইয়ের গ্রন্থ পরিচিতি ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড.শামসুল আলম সম্পাদিত বইটির প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড.মসিউর রহমান।

ড. ফরাস উদ্দিন বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে অনেক ভালো করছে বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যক্তি পর্যায়ে যদি আমলে নেওয়া না হলে এই অর্জন কাজে আসবে না। বৈষম্য ব্যাপক হারে বাড়ছে। এখানে সামষ্টিক অগ্রগতির পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায় উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা একে অন্যের পরিপূরক। বঙ্গবন্ধু যেসব কাজ শুরু করেছিলেন শেখ হাসিনা সেসব বাস্তবায়ন করছেন। কৃষিতে ভর্তুকির ক্ষেত্রে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ১০০ কোটি টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন। এরপর আইএমএফসহ সুশীল সমাজের নানা চাপেও সেখান থেকে সরে আসেননি। আওয়ামী লীগ মোড়লদের ফাটাফাটিতে ভারসাম্য রক্ষার কঠিন কাজটি করছেন শেখ হাসিনা। তবে তিনি সহকর্মী নিয়োগে তার পিতার মতোই অনেক ক্ষেত্রে শুদ্ধ সিদ্ধান্ত নেন না। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার কিছু সঠিক সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। যেমন দীপু মনিকে ওই সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছেন। ফলে সমুদ্রসীমা জয়ের ক্ষেত্রে তার ব্যাপক ভূমিকা ছিল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড.বিনায়ক সেন, ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক আব্দুল বায়েস, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মঞ্জুরুল আহেমেদ, বাংলা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক কবি নূরুল হুদা এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে.চৌধুরী।

আরও বক্তব্য দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ড.নজরুল ইসলাম, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ প্রমুখ।

ড. মসিউর রহমান বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন চীন অনেক উন্নতি করেছে কিন্তু ভোটের অধিকার না থাকলে সেগুলো পাথরের মতো শুষ্ক মনে হয়। কাজেই সামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হওয়ায় মানুষ বেশি টাকা দিয়েও শিক্ষা গ্রহণ করতে আগ্রহী এটা প্রমাণিত হয়েছে।

বইটির সম্পাদক ড.শামসুল আলম বলেন, বইটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লেখা নয়। এখানে যারা লিখেছেন তারা সবাই তথ্য উপাত্ত দিয়ে বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই লিখেছেন। এখানে কাউকে খুশি করার জন্য কিংবা দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা স্থান দেওয়া হয়নি। নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

আব্দুল বায়েস বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবতা। এখন স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। সেটিও বাস্তব হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের মতোই স্মার্ট বাংলাদেশ সমাজকে বদলে দেবে।