বাংলাদেশকে ভালোবেসে রাশিয়ায় ইরিনার ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী
৩০ বছর সময় ধরে সংগ্রহ করা ২৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশের স্মৃতিচিহ্ন (সুভেনির) নিয়ে রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গের ক্রসতাদ নামের একটি উপ-শহরে মাসব্যাপী ব্যতিক্রমীয় প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন সে দেশের নাগরিক হাসমি রহমান ইরিনা। এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ দর্শক এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন অর্ধলাখের বেশি দর্শক। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ইরিনার সংগ্রহ করা বাংলাদেশের হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প, ছবি, বই, পোশাকসহ নানান সুভেনির।
এই রাশিয়ান নাগরিকের পুরো নাম হাসমি রহমান ইরিনা। পেশায় একজন সঙ্গীতজ্ঞ ও সংগ্রাহক। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের ধামরাইয়ের ছেলে মিজানুর রহমান হাসমির সাথে পরিচয়। পরে ১৯৯৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। বিয়ের পর বাংলাদেশে কাটিয়েছেন টানা পাঁচ বছর। এরপর গত ৩০ বছরে অসংখ্যবার বাংলাদেশে এসেছেন। বর্তমানে সেইন্ট পিটার্সবার্গে বসবাস করছেন তারা। ইরিনা চমৎকার বাংলায় কথাও বলেন।

ইরিনা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহু পুরনো। আমার স্বামী মিজানের সাথে প্রথম বাংলাদেশে গিয়ে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে যাই। একবার টানা পাঁচ বছর ছিলাম। এরপর অসংখ্যবার গিয়েছি। বাংলাদেশে গেলেই নানান সুভেনির সংগ্রহ করি। গত ৩০ বছরে আমি ২৫ হাজারের বেশি নানান সুভেনির সংগ্রহ করেছি। সেগুলো নিয়েই আমার এই প্রদর্শনী। আমি দারুণ সাড়া পেয়েছি। এখ পর্যন্ত লক্ষাধিক দর্শক ভিজিট করেছেন। বাংলাদেশের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সাথে পরিচয় হয়ে তাদের অধিকাংশই নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করছেন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এই দম্পতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করবেন।