পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ, বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুর, হাজারের বেশি যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া আর গণগ্রেপ্তার – পাঁচদিন ধরে এমনই ধ্বংসাত্মক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) প্যারিসের কাছে নানতের এলাকায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত ১৭ বছর বয়সী কিশোর নাহেলকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করলে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্যারিসে। পরে তা বিস্তৃত হয় অন্যান্য শহরে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা দেশটির পুলিশ ও প্রশাসনের। চরম চাপের মুখে আছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তিনি জার্মানিতে রাষ্ট্রীয় সফর স্থগিত করেছেন। বিভিন্ন সময় পুলিশের বৈষম্যের শিকার হওয়া তরুণ নারী-পুরুষই মূলত বিক্ষোভে নেমেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, নাহেলের এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ফ্রান্সে বর্ণবাদী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।
বিক্ষোভ দমাতে গত শুক্রবার (৩০ জুন) সারাদেশে ৪৫ হাজার পুলিশ, বিশেষ ইউনিট, সাঁজোয়া যান এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। তাতেও কাজ হয়নি। করণীয় ঠিক করতে শনিবার (১ জুলাই) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন মাখোঁ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা জারি করা হবে কিনা এ নিয়েও চলছে আলোচনা।
তবে এখনই জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের এক মুখপাত্র। এই হত্যাকাণ্ডে জাতিগত বা বর্ণবাদী বিষয় ছিল না বলেও দাবি তাঁর।
সহিংসতার অভিযোগে এরই মধ্যে এক হাজার তিনশর বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা দুই হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্রান্সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, বিভিন্ন সড়কের ২ হাজার ৫৬০টি স্থানে অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। ১ হাজার ৩৫০টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত আহত হয়েছেন ৭৯ জন পুলিশ ও জেন্ডারমেজ।
তবে সিএনএন বলছে, ৫২২ পুলিশ কর্মকর্তা ও জেন্ডারমেজ আহত হয়েছেন। সহিংসতা ও লুটপাট হয়েছে বলেও জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ছেলে হত্যার জন্য একজনকে দায়ী করছেন নিহত কিশোরের মা। এদিকে, রোববার (২ জুলাই) নাহেলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, হলুদ রঙের একটি প্রাইভেটকার চালিয়ে যাচ্ছিল কিশোর নাহেল। এ সময় তাকে দুই পুলিশ সদস্য থামান। এর মধ্যে এক পুলিশ বন্দুক তাক করে রাখেন কিশোর চালকের দিকে। হঠাৎ সে গাড়ি চালিয়ে যেতে চাইলে গুলি ছোড়েন তিনি।
পরে কিছু দূরে গাড়িটি উল্টে যায়। পুলিশের দাবি, তাদের এক সদস্যের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থেকেই তাকে গুলি করা হয়েছে। কিন্তু ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দুই পুলিশ সদস্য গাড়ির সামনে নয়, এক পাশে ছিলেন। এতে কোনো ঝুঁকি ছিল না।
ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। চলছে তদন্ত। সরকারের পক্ষ থেকে বিচারের আশ্বাস দিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।