বঙ্গবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি দাবি ব্যবসায়ীদের
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৬ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ আহত ১১,
রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটের আগুন প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরমধ্যে কয়েকটি মার্কেটের কয়েক হাজার দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) ভোর ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গবাজার মার্কেটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। সংবাদ পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৬টা ১২ মিনিটে। সর্বশেষ ফায়ার সার্ভিসের৫০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। পরে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও ওয়াসাসহ অনেক বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজে যোগ দেয়। মঙ্গলাবার দুপুরে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে ফায়ার সার্ভিসের ৬ সদস্যসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। আগুনে ৫ হাজার দোকানের আনুমানিক দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি ব্যবসায়ীদের।
আগুনের ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার দোকানের আনুমানিক দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। এ ক্ষয়ক্ষতি থেকে প্রাথমিকভাবে থোক বরাদ্দ হিসেবে সাতশ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, শুধু বঙ্গবাজার কাঠের মার্কেটেই আড়াই হাজারের মতো দোকান রয়েছে। এখানে ছোট ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান করেন। সামনে ঈদ। সবাই ঈদকেন্দ্রিক বেচাকেনার পণ্য তুলেছেন দোকানে। এমন সময় এই অগ্নিকাণ্ড বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে এনেছে।
হেলাল উদ্দিন বলেন, এই ব্যবসায়ীদের পুঁজি বলতে দোকানের মালামালই। মালামাল পুড়ে গেলে তাদের আসলে পুঁজি বলতে সব শেষ। এখন তাদের জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, রমজানের ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসায় ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রাথমিকভাবে সাতশ কোটি টাকা থোক বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।
অপরদিকে আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৬ সদস্যসহ ১১ জন আহত হয়। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হচ্ছেন—রবিউল ইসলাম অন্তর (৩০), আতিকুর রহমান রাজন (৩৫), মেহেদি হাসান (২৮), ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক বাবুল চক্রবর্তী (৫৮) ও সোহেল (৪৮)। এর মধ্যে মেহেদি হাসানকে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত অন্য ব্যক্তিরা হচ্ছেন—নিলয় (৩৫), শাহিন (৪০), রিপন (৪০), রুবেল (৩২), দুলাল মিয়া (৬০) , মো. সুমন মিজি (৪৮) ও বঙ্গবাজারের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও মো. সোহেল (৪৮)।
আগুনের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, আটজন ঢামেক হাসপাতালে ও একজন শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তবে কেউ গুরুতর আহত নন।
এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তিনটি কারণে রাজধানীর বঙ্গবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে দেরি হয়েছে। পানি সংকট, উৎসুক জনতা ও বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব হয়।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিটের চেষ্টায় ১২টা ৩৬ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এছাড়া সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও ওয়াসাসহ অনেক বাহিনী ও সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে।
বঙ্গবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্মিলিত সাহায্যকারী দল, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাহায্যকারী দল ও একটি হেলিকপ্টার কাজ করছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বঙ্গবাজারে আগুনের কারণে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় থানা অথবা ফায়ার সার্ভিস অফিসে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. মনজুর রহমান এ তথ্য জানান।