বঙ্গবাজারের পোড়া শাড়িতে নারায়ণগঞ্জের সাহাপাড়ার মণ্ডপ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয়েছে পূজার সকল আনুষ্ঠানিকতা। উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পূজা মণ্ডপগুলোতে। তবে পূজার আয়োজনে ভিন্নমাত্রা এনেছে শহরের টানবাজার সাহাপাড়া পূজা কমিটি। পুরো মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে রাজধানীর বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আংশিক পোড়া বেনারসি শাড়ি দিয়ে। রাজকীয় আঙ্গিকে নির্মিত আকর্ষণীয় এই পূজামণ্ডপ ঘিরে এখন সবার কৌতূহল। বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের থেকে আংশিক পোড়া বেনারসি শাড়ি কিনে সাজানো হয় পূজামণ্ডপ। শনিবার (২১অক্টোবর) টানবাজার সাহাপাড়া মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, যেদিকে চোখ যায়, চোখ ধাঁধানো রঙ বেরঙের নকশা-খচিত শৈল্পিক কারুকাজ। যার দেখা মেলে শুধুমাত্র কোনো রাজপ্রাসাদে। দেখে মনে হবে কোনো রাজমহল। তবে এই কারুকাজ কোনো দেয়ালে নয়। মণ্ডপের চারপাশ সাজানো হয়েছে রঙ বেরঙের বেনারসি শাড়ি দিয়ে।স্থানীয়রা জানান, গত দুই দশক ধরে পূজামণ্ডপ সাজানোর কাজে দেশীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে হস্তশিল্প ব্যবহার করে ভিন্নতা এনেছে টানবাজার সাহাপাড়া পূজা কমিটি। তাই এবারও রয়েছে ভিন্নতা। মণ্ডপজুড়ে রাজকীয় শৈল্পিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রঙ বেরঙের বেনারসিতে। নানা রঙের ২৫৪টি বেনারসি শাড়ির আবরণে সাজানো হয়েছে পুরো মণ্ডপটি। তা দেখতে এলাকাবাসীর পাশাপাশি ছুটে আসছেন দূর দূরান্তের মানুষও। মণ্ডপটি সবার কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে টানা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে নিরলস শ্রম দিয়েছেন ইভেন্ট টাচ নামে ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সেট ডিজাইনার মো. ফরহাদ হোসেন। দেশ বর্তমান কে তিনি বলেন, আমি ১৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি। টানা গত সাত বছর ধরে টানবাজারের সাহাপাড়া পূজামণ্ডপ ডেকোরেশনের কাজ করছি। প্রতি বছরই ভিন্নতা ও নতুনত্ব থাকে। গত কয়েক বছর আগে থেকেই আমরা মণ্ডপ ডেকোরেশনে শোলা, ককশিট, প্লাস্টিক বর্জন করে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল সামগ্রী ব্যবহার করছি। এ বছর যখন আয়োজক কমিটির সঙ্গে নতুন কনসেপ্ট নিয়ে প্ল্যান করছিলাম সে সময় বঙ্গবাজার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড হয়। তখন বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে দেখতে পাই, অনেকেই পোড়া কাপড় ক্রয় করছেন। সেই থেকেই আমাদের এই কনসেপ্ট আসে যে, এবারের পূজামণ্ডপ আমরা পোড়া বেনারসি দিয়ে সাজাতে পারি। আয়োজকদের সঙ্গে সিদ্ধান্তের পর গত ছয় সাত মাস ধরে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিছু কিছু করে পোড়া কাপড় সংগ্রহ করি। ২৫৪টি বেনারসি আমরা কিনি। এরপর থেকেই আমাদের প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়।বঙ্গবাজার পোশাক মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকেই পোড়া বেনারসি দিয়ে মণ্ডপ সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানান আয়োজকরাও। পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুমন সাহা দেশ বর্তমান কে বলেন, বঙ্গবাজার পোশাক মার্কেটে আগুনের ঘটনার পর থেকে আমরা ভাবছিলাম কীভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো যায়। একপর্যায়ে মনে হয়, আমাদের পূজামণ্ডপ সাজাতে প্রচুর টাকা খরচ হবে। ওই টাকা দিয়ে বঙ্গবাজারের পোড়া শাড়ি কাপড় দিয়ে আমাদের মণ্ডপ সাজাতে পারি।আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, গত ৪ এপ্রিল বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আংশিক পোড়া কাপড় সংগ্রহ শুরু করেন নারায়ণগঞ্জের সাহাপাড়া পূজা কমিটি। এরপর জুলাই মাস থেকে শুরু হয় পূজার প্রস্তুতি ও মণ্ডপ নির্মাণের কাজ।