ফ্রান্সে পুলিশের গুলিতে কিশোর নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের শহরতলি নঁতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শহরজুড়ে বিক্ষোভকারী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এতে প্যারিস শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

ফরাসী গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ওই কিশোরের নাম নায়েল এম। তিনি ভাড়ায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বেশ কয়েকটি ট্রাফিক আইন ও সিগনাল অমান্য করায় তাকে আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা গাড়ির চালকের দিকে অস্ত্র তাক করে আছেন। গুলিবর্ষণের আওয়াজ হয়। গাড়িটি কিছুদূর গিয়ে ধাক্কা খেয়ে থামে। জরুরি বিভাগের লোকজন তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থলে পৌছালেও গুলিবিদ্ধ কিশোর তৎক্ষণাৎ মারা যায়। গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের কর্মকর্তাকে হত্যা মামলায় আটক করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায়, দুই পুলিশ কর্মকর্তা একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছিলেন। পরে কাছাকাছি অবস্থান থেকে চালকের আসন বরাবর গুলি করেন একজন।

গাড়িতে কিশোরসহ আরও দুজন ছিলেন। একজন পালিয়ে যান এবং অপরজনকে আটক করা হয়েছে।

প্যারিসের পুলিশ প্রধান লরেন্ট লুনেজ দাবি করছেন, ওই পুলিশ অফিসারের কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সম্ভবত তিনি বিপন্ন বোধ করছিলেন।

তবে নিহত কিশোরের আইনজীবীর দাবি, পুলিশ ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছে ওই কিশোরকে।

শহরের মেয়র প্যাট্রিক জ্যারি এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে খুবই মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন এবং দ্রুত সঠিক তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

কিশোর হত্যার ঘটনায় ফ্রান্সের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা পুলিশ সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে জানা গেছে, মঙ্গলবার পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। স্থানীয় কয়েকটি বাস স্টপও ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে পুলিশ। অন্তত ৯ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

২০২২ সালে ফ্রান্সে গাড়ি না থামানোয় পুলিশের গুলিতে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এসব মামলায় পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।

দেশটির এলএফআই পার্টির নেতা ম্যানুয়েল বোম্পার্ড এক টুইটে লিখেছেন, ‘কেউ গাড়ি না থামিয়ে পালিয়ে যেতে থাকলে তাকে হত্যার অধিকার নেই পুলিশের। হ্যাঁ, গাড়ি থামাতে অস্বীকৃতি জানানো আইন বিরুদ্ধে। কিন্তু তা মৃত্যুদণ্ডের মতো দণ্ডবিধিগুলোর একটি নয়।’

সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা অলিভিয়ার ফাউর বলেছেন, ‘গাড়ি থামাতে অস্বীকৃতি জানানো পুলিশকে হত্যার লাইসেন্স প্রদান করে না।’

এমএইচএফ