ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে সবাই ছুটছে নাড়ীর টানে গ্রামের বাড়িতে

কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকা এখন প্রায় ফাঁকা।  মতিঝিল,পল্টন সচিবায়,হাইকোট এলাকা বলতে গেলে ফাঁকা।  মাঝে মাঝে টাউন সার্ভিসে ঘরমুখো মানুষের ভীড় দেখা যাচ্ছে। সবাই ছুটছে নাড়ীর টানে গ্রামের বাড়িতে।  যেখানে রয়েছে অনেকের বৃদ্ধ মা বাবা কিংবা ভাই বোন কিংবা কারো কারো পুরো পরিবার।  পরম প্রিয় সেসব আত্মীয় স্বজনদের দেখা পেতে, তাদের সাথে আনন্দঘন ঈদ কাটাতে বাড়ি ফেরা।  যে কারনে ব্যস্ত ঢাকা এখন ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

ধারণা করা যাচ্ছে শুক্রবারের (২১ এপ্রিল) মধ্যে আরো ফাঁকা হয়ে যাবে।  তবে রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করার মতো।  ঘর মুখো মানুষের বাড়ি ফেরাকে নিরাপদ করতে তাদের কর্মতৎপরতা  বেড়েছে।

এবার ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হয়েছে গত বুধবার (১৯ এপ্রিল) থেকে।  শব-ই কদরে সরকারি ছুটির সঙ্গে সরকারের নির্বাহী আদেশে বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) ছুটি পাওয়ায় টানা ছয় দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন সরকারি কর্মজীবীরা।  ফলে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) শেষ কর্মদিবস থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। বুধবার (১৯ এপ্রিল) থেকেই মোটামুটি ঢাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা হতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক ফাঁকা দেখা গেলেও ভিড় দেখা গেছে স্টেশনে স্টেশনে।  সকাল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের যেমন ভিড় ছিল, বাস টার্মিনালগুলোতেও ছিল মানুষের চাপ।  সকাল থেকে দূরত্ব ভেদে সদরঘাট থেকে গন্তব্যে ছেড়ে গেছে একটার পর একটা লঞ্চ।

রাজধানীতে লাখো কর্মজীবীর বসবাস।  বছরে মুসলমানদের বড় দুই উৎসব ঈদকে কেন্দ্র করে এ সকল কর্মজীবীদের একটা বড় অংশ ঘরমুখী হোন। ঘরমুখী মানুষের স্রোতে ঢাকা ফাঁকা হয়ে যায়।  যা এখন হতে শুরু করেছে।  বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিন কয়েকটি রুটের ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটলে পুরো স্টেশন জুড়ে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।  ট্রেন আসা মাত্র ওঠার প্রতিযোগীতা দেখা গেছে বরাবরের মতোই।  আর এসব সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে ট্রেনের নিরাপত্তা কর্মীদের।

চট্টগ্রামমূখী ট্রেন সোনারবাংলা এক্সপ্রেস ছেড়েছে দুই ঘন্টা দেরিতে। ট্রেনের যাত্রী আসাদুল হক দেশ বর্তমানকে বলেন, সকালে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও দুই ঘন্টা পর ছেড়েছে। ফলে অন্য ট্রেনের যাত্রীদের ভিড় বেড়ে গেছে স্টেশনে।  তবে কিছুটা দেরি হলেও বাড়ি ফেরার আনন্দে খারাপ লাগছে না বলে জানান তিনি।

৪০ মিনিট দেরিতে ট্রেন এসেছে, এতটুকু লেট হতেই পারে উল্লেখ করে রংপুরের যাত্রী মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।  ট্রেন ৪০ মিনিট লেট হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবেই দেখছি।

অন্যদিকে মহাখালী বাস টার্মিনালেও দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়।  দূরপাল্লার গাড়ির টিকিট আগেই কেটে রেখেছেন যাত্রীরা।  ফলে তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠতে হয়নি তাদের। আর যারা স্বল্প দ‚রত্বে যাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।  বগুড়ার যাত্রী মোহসিন জানান, বাসের অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছেন তিনি।  ফলে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই বাসে বসেছেন।  আবুল কালাম আজাদ গাবতলী থেকে খুলনার বাসে উঠেছেন।  তিনি বলেন, এবার কাউন্টার থেকেই তিনি টিকিট সংগ্রহ করে বাসে উঠেছেন।

জানা গেছে এবার পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বেশিরভাগ মাওয়া-ভাঙা পথ ধরে বাড়ি ফিরছেন।  হানিফ কাউন্টারের কর্মী জাকির হোসেন জানান, আগে এমন ছিল যে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেও কুলানো যেতো না।  এখন যাত্রী ডেকেও পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে গাবতলী বাস টার্মিনালের উল্টো চিত্র দেখা গেছে সায়েদাবাদ টার্মিনালে।  এবার এইদিকের বাসগুলোতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর ভিড় বেশি।  যাত্রীরা জানান, পদ্মাসেতু পার হওয়ার একটা ইচ্ছা তো রয়েছেই তাছাড়া কম সময়ে বাড়ি পৌঁছানো যাবে।

এদিকে লঞ্চঘাটে গিয়েও ব্যস্ততা দেখা গেছে। স্বল্প দূরত্বের লঞ্চগুলো সকাল থেকেই যাত্রী পরিবহন করছে।  আর দূরপাল্লার লঞ্চ বিশেষ করে বরিশাল, পটুয়াখালী রুটের লঞ্চগুলো ছেড়ে যাবে বিকেল থেকে।  সকালে চাঁদপুর, ভোলা, হুলারহাট, মুন্সিগঞ্জের মতো কম দূরত্বের লঞ্চ যাত্রী বোঝাই করে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।  এবার বাস, ট্রেন এবং লঞ্চ সব গণপরিবনই ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয় মাথায় রেখে বিশেষ সার্ভিসের ব্যবস্থা রেখেছে।  ফলে যাত্রীরা টার্মিনাল বা স্টেশনে গেলেই যানবাহন পাচ্ছে।

অপরদিকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, নগর গণপরিবহনে ঘরমুখী যাত্রীদের চাপ রয়েছে।  সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর- সদরঘাট, মহাখালী ও গাবতলী মুখী গণপরিবহনে ভিড় সবচেয়ে বেশি।  এ সকল স্টেশন থেকে কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, কেউবা লঞ্চে চেপে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।  কোথাও রাস্তা ফাঁকা থাকলেও সিগন্যালগুলোতে যানজট লেগে থাকতে দেখা গেছে।  ঘরমুখী এই জনস্রোত আজ শুক্রবারও (২১ এপ্রিল) থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।