প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর যান চলাচলে উন্মুক্ত ১০০ সেতু

যান চলাচলে সারা দেশে ১০০টি সড়ক সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  ৮৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুগুলো উদ্বোধনের পরপরই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

সোমবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এসব সেতুর উদ্বোধন করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির গণভবন প্রান্তে সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।  অনুষ্ঠানে সেতুগুলো বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।

অনুষ্ঠানে সেতুগুলোর ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি।  এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।  আমরা বাংলাদেশটাকে উন্নয়নের জন্য ‘রূপকল্প ২০২১’ ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই লক্ষ্যে আজ ১০০ সেতুর উদ্বোধন হলো।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি।  পার্বত্য চট্টগ্রামে যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল না, সেখানে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক করে দিয়েছি।  এর জন্য বিভিন্ন জেলা যুক্ত করে আজ একসাথে ১০০ সেতুর উদ্বোধন করতে পারছি।

এ সময় প্রতিটি মানুষকে তেল, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, প্রত্যেকটি এলাকায় যেখানে খালি জমি আছে- সেখানেই খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে।  বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে- তার ধাক্কা যেন বাংলাদেশে খুব বেশি ক্ষতি করতে না পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে আজ খাদ্যের যে অভাব দেখা দিচ্ছে, সেই সমস্যা থেকে বাংলাদেশের মানুষ যাতে মুক্ত থাকে সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা।  তবে প্রত্যেকটি পরিবারেরও সে চেষ্টা থাকতে হবে।  সকলকে সচেতন হতে হবে, সাশ্রয়ী হতে হবে এবং মিতব্যয়ী হতে হবে।  বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নের যে ধারাটা আমরা সৃষ্টি করেছি- সেটা যেন অব্যাহত থাকে।

সেতুগুলোর মধ্যে আছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ১৭টি, বরিশাল বিভাগে ১৪টি, ময়মনসিংহে ছয়টি, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুরে পাঁচটি করে, ঢাকায় দু’টি ও কুমিল্লায় একটি।

এর আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সেতু উপহার দেবেন।  আমরা শুভক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছি।’

যাতায়াতে সময় বাঁচিয়ে সড়ক যোগাযোগকে নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ করার পাশাপাশি সেতুগুলো দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।