প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উন্নয়ন উৎসবের আয়োজন সুজনের

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আগামী ২৫ নভেম্বর শুক্রবার উন্নয়ন উৎসব করবে ‘জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই’ শীর্ষক সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ। সোমবার বিকেলে উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে নাগরিক উদ্যোগের এক সভায় বঙ্গবন্ধু টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং আউটার রিং রোডের সংযোগস্থলে এ উন্নয়ন উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের আগামী দিনের গুরুত্ব বিবেচনা করে এ শহরকে বৃহৎ বৃহৎ প্রকল্প দিয়ে নিজের মতো করে সাজিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রামের মানুষ না চাইতেই একের পর এক মেগা প্রকল্পের অনুমোদন এবং অর্থের সংস্থান করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। দোহাজারী-ঘুমধুম রেললাইন স্থাপন প্রকল্প, আনোয়ারায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন, মহেশখালী ইকোনমিক জোন, নদীর তলদেশে টানেল, আউটার রিং রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, বে-টার্মিনাল, মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল, গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বৃহৎ প্রকল্প উপহার দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এসব প্রকল্প পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম শহর যে সারা বাংলাদেশের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের উন্নয়নের সুযোগ অনেক বেশি। আর সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে আগামী দিনের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রধানতম কেন্দ্রে পরিণত করতে চায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়ার পথের অবকাঠামোগত সংকটও দূর হবে বলে মনে করেন তিনি।

তাই চট্টগ্রামবাসীও কৃতজ্ঞতার সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের প্রতিফলন ঘটাবে ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে। সেদিন সর্বস্তরের চট্টগ্রামবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাকে সফল ও স্বার্থক করে তুলবেন সে প্রত্যাশা করেন সুজন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে উৎসবমুখর করতে নাগরিক উদ্যোগ আগামী ২৫ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু টানেলের সম্মুখে উন্নয়ন উৎসব এবং ২৭ নভেম্বর কলেজিয়েট স্কুল মাঠে ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের উন্নয়নে আরো বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন নগর আওয়ামী লীগের এই সহ-সভাপতি।

বিশেষ করে চট্টগ্রামের অতি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় একটি মাতৃসদন কাম জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন, কালুরঘাট রেল কাম যান চলাচল সেতু নির্মাণ, নতুন সরকারি স্কুল ও কলেজ নির্মাণ, সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের বিনোদন কেন্দ্রসহ বিদেশী পর্যটকদের জন্য বিশ্বমানের হোটেল নির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনজর আশা করেন তিনি।

এসব প্রকল্পসমূহ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা গেলে চট্টগ্রাম নগরীটি একটি আধুনিক নগরীতে পরিণত হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন সিটি কর্পোরেশনের সাবেক এই প্রশাসক।

নাগরিক উদ্যোগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মো. ইলিয়াছ এবং সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মসিউর রহমান চৌধুরী, আব্দুর রহমান মিয়া, সাইদুর রহমান চৌধুরী, যুবনেতা মাহবুবুল হক সুমন, আবেদ মনসুর, নুরুল আলম, শওকত হোসাইন, কাউন্সিলর আব্দুস সালাম মাসুম, মো. আজম খাঁন, মো. ইলিয়াছ, ছালেহ আহমদ জঙ্গী, রেজাউল করিম ইরান, নুরুল কবির, এনামুল হক মিলন, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, মোরশেদ আলম, ডা. অঞ্জন কুমার দাশ, মো. সেলিম, এহসানুল হক চৌধুরী, মো. শাহজাহান, অনির্বান দাশ বাবু, মো. সাইফুল্লাহ আনছারী, জাহাঙ্গীর আলম, শহীদুল আলম লিটন, রকিবুল আলম সাজ্জী, রাজীব হাসান রাজন, আশিকুন্নবী চৌধুরী, ফেরদৌস মাহমুদ আলমগীর, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এম. ইমরান আহমেদ ইমু, আফগানী বাবু, মো. ফারুক, মো. ওয়াসিম, আবদুল্লাহ আল মামুন, শাহনেওয়াজ আশরাফী, মনিরুল হক মুন্না, হাসান মুরাদ প্রমুখ।