অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, পুরো বাজেটই গরিব মানুষের জন্য উপহার। এ দেশে অনেক মধ্য আয়ের মানুষ আছে, সময় এসেছে তাদের ট্যাক্স পেমেন্ট করতে হবে। যারা আয় করেন ট্যাক্স দেওয়ার সক্ষমতা আছে তাদের ট্যাক্স দিতে হবে।
শুক্রবার (২ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
কর্মসংস্থানের দিকে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কাজের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে ২ কোটি ৪৫ লাখ কাজের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। অতীতে বাজেটে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার বাস্তবায়ন করেছি। আগামীতেও হবে।
রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জনে তিনি আশাবাদী বলে জানান আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ক্রমান্বয়ে রাজস্ব আয় বাড়ছে। এখন সময় এসেছে, সক্ষম মানুষদের সবাইকে কর দিতে হবে। তিনি জানান, ক্রমাগতভাবে করপোরেট ট্যাক্স কমিয়েছে সরকার। ৪৫ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী এ সময় বলেন, আমরা এখানে যারা উপস্থিত হয়েছি প্রত্যেকের দেশপ্রেম আছে। দেশপ্রেম আছে বলেই আমরা বার বার বিজয়ী হয়েছি। আমরা ফেল করি না।
তিনি বলেন, এদেশের সব কিছুর মূলে হলো মানুষ। তাদের কর্মদক্ষতা, দেশের প্রতি তাদের মায়া-মমতা, দায়বদ্ধতা অসাধারণ এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। আমার বিশ্বাস আমরা পরাজিত হব না, বিজয়ী হবোই হব।
তিনি বলেন, আমি চাকরির ব্যাপারে যেসব কমিটমেন্ট বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাজেটে করেছিলাম সেগুলো দিয়েছি। আমরা মেইড ইন বাংলাদেশ কালচারটা জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছি। এ দেশে যা জিনিস তৈরি হবে, তা দিয়ে আমাদের প্রয়োজন মিটবে। এর মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
২ হাজার টাকা কর দিয়ে গৌরবের অধিকারী হবেন গরিবরা বলে মন্তব্য করে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জানান, গত তিন বছরে ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭ শতাংশে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, কর দিতে চাই না, আমাদের এ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত রয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি, বাজিণ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থ সচিব ফাতেমা ইয়াসমিনসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বিশাল এ বাজেটের মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।