দেশ বর্তমান ডেস্ক:
পাকিস্তানের বালুচিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৫২ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন অনেকে। গতকাল শুক্রবার ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলের প্রস্তুতিকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় সংবাদমাধ্যম ডন।এক প্রতিবেদনে ডন জানায়, স্থানীয় প্রশাসক আত্তাহ উল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রদেশের মাস্তুল শহরে একটি মসজিদের বাইরে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় সেখানে অন্তত পাঁচশ’ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পাশের একটি হাসপাতালে আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য আছেন বলেও জানান উল্লাহ। এই হামলাকে আত্মঘাতী বলে সন্দেহ করছেন তারা। পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মনির আহমেদ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘বোমা হামলাকারী পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্টের গাড়ির কাছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান, এখন পর্যন্ত কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি। এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, মিলাদুন্নবীতে মানুষকে টার্গেট করে এভাবে হত্যা ‘জঘন্য কাজ’। হতাহতদের পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তবর্তী বালুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ। বিচ্ছিন্নতাবাদী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বড় ধরনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। প্রদেশটিতে তালেবানের সরব উপস্থিতি রয়েছে। চলতি বছরে পাকিস্তান একের পর এক জঙ্গি হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। এ ঘটনায় শুরুতে শহীদ নবাব ঘৌস বখশ রাইসানি মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী ডা. সাঈদ মিরওয়ানি বলেছিলেন, হামলায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এর আগে জেলার সহকারী কমিশনার (এসি) আত্তাহুল মুনিম বলেন, বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এ এসি জানান, আলফালাহ রোডে মদিনা মসজিদের কাছে ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলে মানুষজন জড়ো হওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি হামলাটিকে ‘অসহনীয়’ উল্লেখ করে বলেন, শত্রুরা বেলুচিস্তানে ধর্মীয় সহনশীলতা ও শান্তি বিনষ্ট করতে চায়। এ ঘটনায় তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী আলি মর্দান ডোমকি হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষকে।